একসময় ঘর আলোকিত করত হারিকেন, কুপি বাতি আর হ্যাজাক লাইট। বিদ্যুতের যুগে হারিয়ে গেলেও এই আলো আজও জড়িয়ে আছে বাঙালির স্মৃতি, ঐতিহ্য ও আবেগে। পড়ুন হারিকেনের হারিয়ে যাওয়া সময়ের গল্প।
হারিকেনের টিমটিমে আলো: হারিয়ে যাওয়া এক সময়ের গল্প
‘হারিকেন’ শব্দটি উচ্চারিত হলেই মনে পড়ে যায় শৈশবের সেই শান্ত সন্ধ্যা—ক্ষীণ আলোর উষ্ণতায় পরিবারে গল্প, হাসি আর নির্ভেজাল আনন্দের সময়। বিদ্যুৎহীন যুগে হারিকেনই ছিল আলোর একমাত্র ভরসা।
🔸 শৈশবের স্মৃতিতে সেই টিমটিমে আলো
কেরোসিনের গন্ধ, বাতাসে দুলতে থাকা আগুন, আর সেই আলোয় বই খুলে বসা—এই ছিল জীবনের এক অংশ। পরিবারের সবাই বসত একসঙ্গে, আলোর সঙ্গে ভাগ করে নিত আনন্দের মুহূর্ত।
আজও অনেকের ঘরে কোথাও পড়ে আছে মরিচা ধরা হারিকেন, যা দেখে মনে পড়ে যায় হারিয়ে যাওয়া সেই সময়—যখন একটুখানি কেরোসিনেই জ্বলে উঠত ঘরভরা হাসি।
🔸 হারিকেন: শুধু আলো নয়, জীবনের প্রতীক
হারিকেন ছিল কেবল আলোকযন্ত্র নয়; এটি ছিল সম্পর্ক, ঐতিহ্য ও নির্ভরতার প্রতীক। বিয়ে, নামাজ, ধর্মীয় অনুষ্ঠান কিংবা সাংস্কৃতিক আসরে হারিকেনের আলোয় ঝলমল করত গ্রামীণ জীবন। শিক্ষার্থীরাও হারিকেনের আলোয় পড়াশোনা করত—যেখানে আলো মানেই ছিল সংগ্রাম ও স্বপ্ন।
🔸 হ্যাজাক লাইটের ইতিহাস
যুগের পরিবর্তনে আসে আরও উজ্জ্বল আলোর উৎস—হ্যাজাক লাইট। ১৯১০ সালে জার্মান বিজ্ঞানী ম্যাক্স গ্রেটেজ আবিষ্কার করেন এটি। তেল বা গ্যাস ব্যবহার করে বায়ুচাপের সাহায্যে ছড়াত উজ্জ্বল আলো। গ্রামীণ মেলা, ধর্মীয় সভা ও বাজারে ব্যবহৃত হতো এই লাইট, যা একসময় আলোকিত করেছিল বাংলার রাত।
🔸 বিদ্যুতের যুগে আলো বদলের গল্প
আজ বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে প্রায় প্রতিটি ঘরে। সোলার প্যানেল, রিচার্জেবল লাইট ও এলইডি বাল্বে আলোকিত দেশজুড়ে।
বিদ্যুৎ এখন আর বিলাসিতা নয়—এটি জীবনের অপরিহার্য অংশ। কিন্তু তবু হারিকেনের টিমটিমে আলো এখনো বাঙালির মনে রয়ে গেছে স্নেহ, nostalgia আর অতীতের গল্প হয়ে।
🔸 আলো নয়, এক সময়ের স্মৃতি
হারিকেন নিভে গেছে, কিন্তু তার আলো আজও জ্বলে স্মৃতির প্রদীপে। প্রযুক্তির উজ্জ্বলতার মাঝেও সেই টিমটিমে আলো মনে করিয়ে দেয় এক সময়ের সরলতা, পারিবারিক উষ্ণতা আর আবেগের দিনগুলো।