পলাতক আসামি গ্রেফতার ও অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে ধারাবাহিক সাফল্যের মাধ্যমে আলোচনায় এসেছেন কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া অস্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) এসআই মনির। গত এক মাসে বিভিন্ন মামলার একাধিক আসামিকে গ্রেফতার এবং অস্ত্রসহ ব্যাপক আলামত উদ্ধার করে তিনি উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন এই অভিযানকে সাধারণ মানুষ ও পুলিশ বিভাগ ঝুঁকিপূর্ণ হলেও অত্যন্ত সফল হিসেবে মূল্যায়ন করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানায়, গ্রেফতার হওয়া আসামিদের বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলা, অস্ত্র ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটন, মাদক কারবার, চাঁদাবাজি ও নানা দণ্ডনীয় অপরাধের অভিযোগ ছিল। দীর্ঘদিন ধরে তারা এলাকায় ভয়- ভীতি ও অস্থিরতা সৃষ্টি করে আসছিল।
এই পলাতক ও চিহ্নিত আসামিদের ধরতে মহেশখালী থানার ওসির নির্দেশে ও আইসি মনিরের নেতৃত্বে পুলিশ দল বিশেষ অভিযান শুরু করে। ছদ্মবেশে অনুসন্ধান, গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ, কল ট্র্যাকিং, প্রযুক্তিভিত্তিক নজরদারি এবং সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিংসহ একাধিক কৌশল ব্যবহার করা হয়। ধারাবাহিক এসব অভিযানে উদ্ধার করা হয় দেশীয় অস্ত্র, ধারালো অস্ত্র ও বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ।
অভিযানে গ্রেফতার হয় বহু মামলায় পলাতক কুখ্যাত অপরাধী- ফেসবুকে অস্ত্র হাতে ভাইরাল ডাকাত সরদার রসুর ছেলে তারেক, শাহাজাহান, খোকন, রফিক, ফারুক, সালাউদ্দিনসহ আরও অনেকে। এছাড়া পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর মামলার আসামি রিপন ও আবু সৈয়দকেও আটক করা হয়। এতগুলো সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করে কালারমারছড়া ও মহেশখালী অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন আইসি মনির ও তাঁর টিম।
আইসি মনির বলেন- অস্ত্রধারী পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করা সহজ নয়। অভিযান সফল করতে পরিস্থিতি অনুযায়ী কৌশল বদলাতে হয়েছে এবং বেশ কয়েকবার ব্যর্থও হয়েছি। ঝুঁকি থাকলেও এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বারবার চেষ্টা চালিয়ে গেছি। আলহামদুলিল্লাহ সফলও হয়েছি। আমার টিমের সদস্যরাও ঝুঁকি নিয়েই দায়িত্ব পালন করেছেন। আমার টিমের সকলের প্রতি ভালবাসা ও কৃতজ্ঞতা।
মহেশখালী থানার ওসি (ভারপ্রাপ্ত) মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন- মাঠপর্যায়ে কৌশলগত অভিযান পরিচালনায় কালারমারছড়া ফাঁড়ির আইসি মনিরের সাফল্য প্রশংসনীয়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে অপরাধ দমনে প্রযুক্তি ও সৃজনশীল কৌশলের সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ। অস্ত্র উদ্ধার ও পলাতক আসামি ধরায় তাঁর টিম মহেশখালীতে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আমি তার উত্তরোত্তর সফলতা কামনা করি।
গ্রেফতার হওয়া আসামিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলা, মাদক, চাঁদাবাজি, প্রতারণা ও বিভিন্ন দণ্ডনীয় অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এসআই মনিরের এসব সাফল্য এলাকায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়দের আশা, পুলিশের এ ধরনের দৃঢ় ভূমিকা ভবিষ্যতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এলাকায় পুলিশের এমন সক্রিয়তা সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়েছে এবং অপরাধ দমনে নতুন আস্থা তৈরি করেছে।