রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩২ পূর্বাহ্ন

ভারতের পেয়াজের ঝাঁজ বুঝেছে বাংলাদেশ কিন্তু রাজনীতি বুঝেনি

সীমান্তবাংলা ডেস্ক: / ১০১ জন পড়েছে
প্রকাশ: রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩২ পূর্বাহ্ন

 

পেয়াজ এমন্ একটি সবজি মসলা যেটি ছাড়া রসনার তৃপ্তিই অপুর্নই থেকে যায়। এক কথায় পেয়াজ ছাড়া রান্নার স্বাধ কি জিনিস তা আসেনা বললেই চলে। সেই আদী আজ পর্যন্ত বাংলাদেশীরাই সর্বোচ্চ মসলা সমৃদ্ব খাবার তৈরী করে থাকে যার অন্যতম উপাদান বলতেই প্রথমে থাকে পেয়াজ। বিশ্বের অন্য কোন দেশে এতো মসলা সমৃদ্ব খাবার খায় কিনা? নিঃসন্দেহেই বলতে পারি না। এক কথায় বলা যায় পেয়াজ ছাড়া বাঙ্গালীর চলেই না।
এই রসনার স্বাধ পাগল বাঙ্গালীর একটা মারাত্মক বদভ্যাস আছে, সেটি হলো বাংলাদেশে ক্ষুদ্র থেকে উচ্চতর ব্যবসায়ীক ক্ষেত্রে প্রত্যকটা স্থরে যে দ্রব্যটির যোগান কম,, আর চাহিদায় পরিপুর্ন থাকে সুযোগ বুঝে সেটির দাম বাড়িয়ে দিয়ে ফায়দা লুফে নেয়া। মানুষের স্বক্ষমতা আর অক্ষমতার বিন্দুমাত্র চিন্তা তখন কারোরই মাথায় থাকেনা। চাই লাভ আর লাভ। আর সেই সুযোগটিই রপ্ত বা অনুস্মরন করতে চলেছে ভারতীয় ব্যবসায়ী সিন্ডিক্যট বা ভারত সরকার।
ভারত সরকার বুঝে গিয়েছে এই একটি মাত্র সবজি মসলা ছাড়া আঙ্গালী যখন অসহায় তখন সেই সুযোগটা কাজে লাগালে কি এমন ক্ষতি। যেই কথা সেই কাজ। পেয়াজের মুল্য বৃদ্বির নামে পেয়াজ রপ্তানী বন্দ্ব করে দিলো ভারত। অতচ দাম বাড়িয়ে কদিন পর আমাদের এই পরম বন্দ্বু রাষ্ট্রটি ঠিকই আবার পেয়াজ পাঠাবে। পেয়াজভর্তি ট্রাকের সামনে ফুলের মালা দেখলেও কিন্তু তখন অবাক হবোনা। কারন এটি আমাদের প্রাপ্য। একটি রাষ্ট্রের প্রতি অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হলে অবশ্যই তার দেয়া সুফল সইতে হবে, বইতে হবে এটাই স্বাভাবিক।
২০১৯ সালের ঠিক আগের দিকে সৌদি কাতার দ্বন্দ নিয়ে, কাতার সৌদি আরব আর ইউ এই ই সহ বেশ কয়েকটি দেশের উপর বানিজ্যিক অবরোধ আরোপ করেছিলো যা ইউ এ ই র বানিজ্যিক ক্ষেত্রে বিরাট প্রভাব ফেলেছিলো। যে দেশটিতে একটি পন্যের ৫০ পয়সা দাম বাড়াতে সরকারের কাছে ৫০ বার আবেদন করতে হতো সেদেশে প্রত্যেকটা ব্যবসায় যার যেমন খুশি দাম বাড়িয়েছিলো। যেটি তখন সরকার নিয়ন্ত্রন করতে সম্পুর্ন ব্যর্ততার পরিচয় দেয়।
এখন আসি বাংলাদেশের বানিজ্য নীতির বেহাল অবস্থায়। বাংলাদেশ কিন্তু খাদ্য দ্রব্য থেকে শুরু করে বেশির ভাগ ভোগ্য পন্য ভারত থেকেই আমদানী করে। তার মানে বাংলাদেশ এক কথায় ভারত নির্ভরশীল। এটি কে এক প্রকার নতজানু বানিজ্যনীতি ও বলতে পারি। বিশ্বে আরো অনেক দেশ আছে, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, মালেয়শিয়া, সিঙ্গাপুর, মিয়ানমার সহ আরো অনেক অনেক দেশ, যাদের সাথে আমাদের বানিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। একটি রাষ্ট্র ব্যবস্থায় শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কোন দেশের সাথে বানিজ্যিক সম্পর্ক না রেখে যদি অন্যান্য দেশগুলোর সাথেও একই সম্পর্ক বা বানিজ্য বহাল রাখতো তাহলে আজকে ভারত আমাদের এভাবে পেয়াজ নিয়ে ব্লেকমেইলিং করতে পারতোনা। বানিজ্যমন্ত্রী যদি আগে থেকে এসব রাষ্ট্রগুলো র সাথে ব্যবসায়িক সুসম্পর্ক বজায় রেখে বাংলাদেশী ব্যবসায়িদের তাদের সাথে ব্যবসার তাগাদা দিতো তাহলে কখনো আজকের এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হতোনা। কারন ভারতের পেয়াজ নিয়ে রাজনীতি করা এটাই প্রথম নয় আগেও অনেকবার করেছে। সুতরাং আমাদের এর থেকে শিক্ষা নেয়া উচিত। ঘুরে দাড়াতে চাইলে বদলাতে হবে, আর বদলাতে চাইলে পরিবর্তন ছাড়া অসম্ভব। আশা করি আমাদের সরকার মহোদয়ের এ ব্যপারে শুভ বুদ্বির উদয় হবে। বন্দুত্বকে বন্দ্বুত্বের যায়গায় রেখে রাষ্ট্র
পরিচালনায় বিচক্ষনতার পরিচয় দিবে।

লেখকঃ শাহীন মঈনুদ্দীন/ ১৮সেপ্টেম্বর,২০২০


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরও খবর

Calendar

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭৩০  
https://youtube.com/@simantobangla1803
এক ক্লিকে বিভাগের খবর