বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ১১:২৮ পূর্বাহ্ন

হৃদরোগ নিয়ে প্রতিদিন ১৮৬ শিশুর জন্ম, রোগ বৃদ্ধির কারণ কী?

যমুনা টেলিভিশন / ৪৭৭ জন পড়েছে
প্রকাশ: বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ১১:২৮ পূর্বাহ্ন

শিশুদের মধ্যে হৃদরোগের প্রকোপের বিষয়ে জানতে গবেষণা করেছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)। এজন্য দেশের ৮ বিভাগের ৮ এলাকা থেকে সংগ্রহ করা হয় নমুনা। ৬ হাজার ১৪৬ জন শিশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়।

এতে প্রতি হাজারে প্রায় ১৯ জনের জন্মগত হৃদরোগ ধরা পড়ে। অর্থাৎ দেশে প্রতিদিন গড়ে ১৮৬ জন শিশু এই রোগ নিয়ে জন্ম নেয়। তাদের কারও হার্টে ছিদ্র, কারও ভালভে সমস্যা।

বিএমইউ এর শিশু কার্ডিওলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তারিকুল ইসলাম বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে জন্মগত হৃদরোগের হার আমরা একটু বেশি পেয়েছি। এর কারণ যেটা হতে পারে, প্রথমত শিক্ষার অভাব; দ্বিতীয়ত স্বাস্থ্য সেবার অভাব এবং স্বাস্থ্য সেবা নিতে অনীহা।

আক্রান্তদের প্রায় অর্ধেকের প্রয়োজন হয় সার্জারি। কিন্তু ঢাকার বাইরে এর চিকিৎসা নেই বললেই চলে। রাজধানীতেও হাতেগোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে রয়েছে চিকিৎসা।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের শিশু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক তওফিক শাহরিয়ার হক বললেন, জন্মের এক মাসের মধ্যে যেসব শিশু মারা যাচ্ছে, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মৃত্যুর কারণ হৃদরোগ। হৃদপিণ্ডের অসামঞ্জস্যতা ধরা পড়লে মায়ের পেটে থাকাকালীন অবস্থাতেই ইকোকার্ডিওগ্রাফি করে সেটা নির্ণয় করা এখন সম্ভব। কিন্তু গর্ভাবস্থায় চিকিৎসা দেয়া যাবে না। তবে বাচ্চা জন্মের পরপর কী পদক্ষেপ নিতে হবে সে ব্যাপারে পরিকল্পনা করে রাখা যাবে। অনেক ধরনের জন্মগত হৃদরোগ আছে, যেগুলো এক মাসের মধ্যে চিকিৎসা না করলে বাচ্চাকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব না।

জন্মগত হৃদরোগের প্রধান কারণ অজানা। তবে গর্ভাবস্থায় পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া এবং বায়ুদূষণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ চিকিৎসকদের।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের রোগতত্ত্ব বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, খাবারের মধ্যে কেমিক্যাল দেয়া হচ্ছে, প্রিজারভেটিভ হিসেবে টেস্টের জন্য দেয়া হচ্ছে। আবার ফসলের মধ্যে বিভিন্ন কেমিক্যাল দেয়া হচ্ছে। কোনটার প্রভাবে হচ্ছে আমরা তা জানি না, কিন্তু কিছু তো অবশ্যই আছে। যেমন আমরা দেখেছি, প্লাসেন্টার মধ্যেও মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে।

জন্মের পর শিশুদের শ্বাসকষ্ট, ত্বক ও ঠোঁট নীলচে বা ধূসর হওয়া, দ্রুত হৃৎস্পন্দন, ওজন বৃদ্ধি না পাওয়া জন্মগত হৃদরোগের বড় উপসর্গ। দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসায় বেশিরভাগ শিশুই সুস্থ হয়। গর্ভাবস্থায়ও শিশুদের হৃদরোগ শনাক্ত করা সম্ভব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরও খবর

Calendar

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  
https://youtube.com/@simantobangla1803
এক ক্লিকে বিভাগের খবর