ইরান ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে পারস্য উপসাগর এবং আশপাশের সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। ইরানি হামলার ঝুঁকি বাড়তে থাকায় জাহাজ মালিক ও শিপিং কোম্পানিগুলো নতুন ধরনের সতর্ক কৌশল ব্যবহার শুরু করেছে।
শিপ ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম মেরিন ট্রাফিক এর তথ্যের ভিত্তিতে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালী এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অন্তত আটটি বাণিজ্যিক জাহাজ তাদের গন্তব্য সংকেত পরিবর্তন করেছে। সেখানে নিজেদের চীন সংশ্লিষ্ট বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাহাজগুলো তাদের ট্রান্সপন্ডারে জিপিএস সিস্টেম এ গন্তব্য স্থলের নামের বদলে CHINA OWNER অথবা CHINA OWNER AND CREW ধরনের সংক্ষিপ্ত বার্তা দেখাচ্ছে।
ডেটা অ্যানালিটিক্স ফার্ম কেপলার এর বাণিজ্য ঝুঁকি বিশ্লেষক আনা সুবাসিক বলেন, হরমুজ প্রণালী বা উপসাগর অতিক্রম করার সময় জাহাজগুলো নিজেদের চীনা হিসেবে পরিচয় দেওয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো হামলার ঝুঁকি কমানো। প্রণালী পার হওয়া সহজ করা নয়।
বিশ্লেষকদের মতে ইরান এবং তাদের সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো সাধারণত চীন সংশ্লিষ্ট জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা এড়িয়ে চলে। এর পেছনে বড় কারণ ইরানের সঙ্গে চীনের শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং চলমান সংঘাতে চীনের আপেক্ষিক নিরপেক্ষ অবস্থান।
পরামর্শক প্রতিষ্ঠান রেডডাল এর পরিচালক কুন কাও বলেন জাহাজগুলোর এই সংকেতের অর্থ হলো আমাকে ভুল করে সেই জাহাজ মনে করবেন না যাকে আঘাত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ওই অঞ্চলে অন্তত ১৯টি বাণিজ্যিক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মেরিন ট্রাফিক যে আটটি জাহাজ শনাক্ত করেছে সেগুলোর বেশিরভাগই চীনের পতাকাবাহী নয়। অনেক জাহাজের পতাকায় পানামা, মার্শাল আইল্যান্ড লেখা থাকলেও কুন কাও বলেন বাণিজ্যিক শিপিংয়ে পতাকা ও মালিকের জাতীয়তার সম্পর্ক প্রায়ই আলাদা হয়ে থাকে।
ডেস্টিনেশন সিগনাল সাধারণত জাহাজের ক্রুরা ম্যানুয়ালি এন্টার করেন। এটি মূলত পরবর্তী বন্দরের নাম দেখানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। তবে এখন নিরাপত্তার কারণে অনেক জাহাজ এতে মালিকানা বা জাতীয়তা সম্পর্কিত বার্তা যুক্ত করছে। এর আগে লোহিত সাগরে হুথি বিদ্রোহীদের হামলার সময়ও অনেক জাহাজ একই কৌশল নিয়েছিল।
সূত্রঃ টিআরটি আফ্রিকা