বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের এসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন এডভোকেট মো: সালাহ উদ্দিন সিকদার। সীমান্ত জনপদের এই প্রিয় মুখের নিয়োগ কক্সবাজারের মানুষের জন্য নিঃসন্দেহে আনন্দের সংবাদ।
১৯৭৬ সালের ২৮ এপ্রিল টেকনাফের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম সালাহ উদ্দিন সিকদারের। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতি ও জনসেবায় সক্রিয় ছিলেন। টেকনাফ থেকে শুরু করে রাজধানীর রাজপথে তার অবাধ বিচরণ রয়েছে। মিষ্টভাষী এই মানুষটির কাছে ঢাকায় গিয়ে আইনি সহায়তা চেয়ে কেউ কখনো হতাশ হননি। রাজধানীতে থেকেও তিনি গ্রামের মানুষের সাথে গভীর সম্পর্ক বজায় রেখেছেন, এজন্যই প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ তাকে সাদা মনের মানুষ হিসেবে আখ্যায়িত করে।
তিনি হোয়াইক্যং মডেল ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের বারবার নির্বাচিত ইউপি সদস্য মরহুম রওশন আলী সিকদারের জ্যেষ্ঠপুত্র। পিতার আদর্শ ধারণ করে আইন অঙ্গনে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং তার ছোট ভাইদেরও সফল ও সৎ পথে পরিচালিত করেছেন। তার ভাই সরওয়ার আলম সিকদার বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে ঝালকাঠি সরকারি কলেজে শিক্ষকতা করছেন এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএস-এ এমফিল ও পিএইচডি গবেষক। সরওয়ারের সহধর্মিণী ফারজানা ইমা একই কলেজে শিক্ষকতা করছেন এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইএস-এ পিএইচডি গবেষণা করছেন। সালাহ উদ্দিনের আরেক ভাই জাহাঙ্গীর আলম সিকদার কক্সবাজার জেলা দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী, আর ছোট ভাই লুৎফর রহমান সিকদার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করে ব্যবসায় সফলতা অর্জন করেছেন।
ব্যক্তিজীবনে সালাহ উদ্দিন সিকদার কক্সবাজার আইন কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ভাইস প্রিন্সিপালের কন্যা এডভোকেট রেবেকা নূরের সঙ্গে সুখী দাম্পত্য জীবন পার করছেন। প্রায় এক যুগ ধরে তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী হিসেবে সুনামের সঙ্গে কাজ করে আসছেন। সততা, নিষ্ঠা ও ভদ্র আচরণে তিনি সকলের কাছে প্রশংসিত।
২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে তিনি কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন। কিন্তু তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গ্রেফতার হয়ে কারাজীবনও ভোগ করতে হয় তাকে। তবু তিনি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছেন এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠার পথে অবিচল থেকেছেন।
এবার তিনি আইনের অঙ্গনে ন্যায়ের পক্ষে কলম সৈনিক হিসেবে নতুন দায়িত্ব পেলেন। উখিয়া-টেকনাফবাসীর প্রত্যাশা- মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন সিকদার যেন সততা, নিষ্ঠা ও বিবেকের সঙ্গে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে দেশের সেবায় অবদান রাখতে পারেন। আলহামদুলিল্লাহ।
লেখক ; মোসলেহ উদ্দিন, সম্পাদক সীমান্তবাংলা