এইচএম এরশাদ শুধু একজন সাংবাদিকই নন, তিনি পরিবেশ ও মানবিকতার জন্য নিবেদিত একজন সংগ্রামী মানুষ। দীর্ঘ ৪২ বছরের সাংবাদিকতা জীবনে তিনি সবসময় সামাজিক দায়বদ্ধতাকে সামনে রেখেছেন। অপরিকল্পিত নগরায়ন, নদী ভাঙন, বালি উত্তোলন কিংবা বনজসম্পদ দখল ও পাহাড় কাটা, এসব পরিবেশ ধ্বংসের বিরুদ্ধে তাঁর প্রতিবাদ ও আন্দোলন প্রমাণ করে যে, তিনি শুধু সংবাদকর্মী নন, বরং সমাজ ও পরিবেশ রক্ষার একজন পথপ্রদর্শক।
চট্টগ্রামের দৈনিক নয়া বাংলা দিয়ে ১৯৮৩ সালে যাত্রা শুরু করে দৈনিক পূর্বকোণ এবং বর্তমানে দৈনিক জনকণ্ঠে তাঁর বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা সর্বত্রই গণমানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।
উখিয়া-টেকনাফ অঞ্চলে সাংবাদিক সমাজকে সুসংগঠিত করতে তাঁর অবদান স্মরণীয়। তৎকালীন ইউএনও মো: ওসমান গণি সাহেবের সহযোগিতায় এবং সাংবাদিক রফিক উদ্দিন বাবুলকে সঙ্গে নিয়ে ১৯৮৩ সালে উখিয়া-টেকনাফ প্রেসক্লাবের কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে ১৯৮৮ সালে উখিয়া প্রেসক্লাব গঠিত হলে সভাপতি নির্বাচিত হন এইচএম এরশাদ এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন রফিক উদ্দিন বাবুল। তাঁর নেতৃত্বে উখিয়ার সাংবাদিকতা নতুন ভিত্তি লাভ করে।
মানবিক দিক থেকেও তিনি ছিলেন স্বচ্ছ, সাহসী ও দায়বদ্ধ। সংবাদকর্মের পাশাপাশি তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত চিংড়ি ব্যবসায়ী হিসেবে দীর্ঘদিন কক্সবাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় চিংড়ি উৎপাদন ও সরবরাহকারী সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
সাংবাদিক এরশাদ সীমান্ত জনপদে চোরাচালান, মানবপাচার ও সন্ত্রাসীদের জন্য ছিলেন এক আতঙ্কের নাম। সত্য প্রকাশ করায় বহু মামলা ও হামলার শিকার হলেও প্রতিবারই তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। এসবে ভীত না হয়ে তিনি কলমের লড়াই চালিয়ে গেছেন নির্ভীকভাবে।
তাঁর লেখার ফলেই সরকার উখিয়া-টেকনাফের মানুষকে টেলিভিশন সুবিধা দিতে বালুখালী পাহাড়ে রিলে স্টেশন স্থাপন করে। আবার সীমান্ত বাণিজ্যের জন্য উপযুক্ত স্থানের প্রস্তাব দিয়ে তিনি কেরুনতলীতে স্থলবন্দর প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত করেন।
একজন সাহসী সাংবাদিক, পরিবেশ যোদ্ধা ও মানবিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে এইচএম এরশাদের নাম উখিয়া-টেকনাফসহ গোটা কক্সবাজারে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তিনি আমাদের প্রেরণা- যিনি প্রতিবাদ করতে যেমন জানতেন, তেমনি সমাধানের পথও দেখাতেন।
লেখক- মোসলেহ উদ্দিন
সাংবাদিক ও পরিবেশ কর্মী, উখিয়া ||