মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ০৪:৫৯ পূর্বাহ্ন

বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রাখতে সরকারের সহযোগিতা চান মালিকরা

আমার দেশ / ১৩ জন পড়েছে
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ০৪:৫৯ পূর্বাহ্ন

দেশের বেসরকারি খাতের ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মজুত জ্বালানি দিয়ে সর্বোচ্চ এক মাস উৎপাদন করা যাবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ইনডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইপিপিএ) নেতারা। তারা বলেন, আগে থেকে জ্বালানির ব্যবস্থা না করা হলে সামনে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ভয়াবহ অবস্থায় যেতে পারে। সামনে সেচ ও গরমের তীব্রতা বাড়বে। ফলে এখনই এ ব্যাপারে পরিকল্পনা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনের নেতারা।

সোমবার রাজধানীর একটি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন সংগঠনটির সভাপতি ডেভিড হাসনাত ও সাবেক সভাপতি ইমরান করিম। এ সময় বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, জ্বালানি সরবরাহ ও সরকারের কাছে পাওনা বকেয়ার পরিমাণসহ বিভিন্ন তথ্য ও পরিসংখ্যানও তুলে ধরা হয়।

ইমরান করিম বলেন, বর্তমানে যে পরিমাণ জ্বালানি মজুত রয়েছে তা দিয়ে আগামী ১০ এপ্রিল পর্যন্ত বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রেখে উৎপাদন করা যাবে। সাত দিন আগে পর্যন্ত বেসরকারি খাতের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে মোট এক লাখ ৩০ হাজার টন জ্বালানি তেল মজুত ছিল। বর্তমানে যে পরিমাণ জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে, তা দিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ৭ থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত উৎপাদন চালিয়ে যেতে পারবে।

সরকারের কাছে পাওনা বকেয়া পরিশোধের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫০ শতাংশই আসে বেসরকারি খাতের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে। এসব কেন্দ্র চালু রাখতে নিয়মিত জ্বালানি সরবরাহ ও সময়মতো বিল পরিশোধ নিশ্চিত করা জরুরি। অনেক ক্ষেত্রে ছয় থেকে নয় মাস পরে বিল পরিশোধ করা হচ্ছে, যা জ্বালানি আমদানি ও পরিচালন ব্যয় মেটাতে বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে। ইতোমধ্যে আমাদের বকেয়া প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার মতো। এত পরিমাণ বকেয়া রেখে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালু রাখা কঠিন।

এক প্রশ্নের জবাবে ইমরান করিম বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর সময় এলএলজির দাম ৪০ ডলারে উঠেছিল। তখন তেল দিয়েই সাশ্রয়ী দামে বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে বাংলাদেশ। কয়েকমাস স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানি বন্ধ ছিল। সরকারের তখন ২০ হাজার কোটি টাকার মতো সাশ্রয় হয়েছে। এখনো যেভাবে এলএনজির দাম বাড়ছে, ফার্নেস অয়েল কিন্তু সেভাবে বাড়ে না। তাই এলএনজি সব সময় সাশ্রয়ী নাও হতে পারে বলে জানান তিনি।

বিআইপিপিএ ভাইস প্রেসিডেন্ট ফয়সাল আহমেদ চৌধুরী বলেন, আমরা সরকারের সহযোগী হতে চাই। আমাদের কারণে আজকে এই খাতে অনেক দক্ষ লোকবল তৈরি হয়েছে। আগে বিদেশ থেকে প্রকৌশলী আনতে হতো, এখন দেশীয় প্রকৌশলীরাই সমস্যার সমাধান দিচ্ছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সংগঠনের সভাপতি ডেভিড হাসনাত বলেন, বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎ খাত বেশ ঝুঁকিতে রয়েছে। সামনে তীব্র গরমে প্রায় তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি থাকতে পারে। এ পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরও খবর

Calendar

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  
https://youtube.com/@simantobangla1803
এক ক্লিকে বিভাগের খবর