কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের মধ্য-হরিণমারা এলাকায় গত, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং রোজ- শুক্রবার রাত ৮ টার দিকে এ ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছে। ঘটনায়, ইয়াবা কারবারী হামিদুল হক আমিনের দলবদ্ধ-সন্ত্রাসীদের হাতে গুরুতর আহত হয়ে প্রাণে বাঁচলেন এক অসহায় মা ও ছেলে।
সরেজমিন পরিদর্শনে জানা যায়, মধ্য হরিণমারা এলাকার বাসিন্দা মৃত, হাজী আবুল হোছনের ছোট মেয়ে হাজেরা বেগম তাঁর দুই সন্তান ও মেয়েকে নিয়ে পৈতৃকভাবেপ্রাপ্ত বণ্টনের ভূমিতে দীর্ঘ-বৎসর যাবত বসবাস করে আসছিলেন। তাঁর বাড়ীর সীমানার পার্শ্ববর্তী হিসেবে রয়েছে ওই কারবারী হামিদুল হক আমিন এবং বার্মাইয়া জামাল ও বার্মাইয়া খুরশিদার বসবাস। স্থানীয় লোকজন জানান, পেশায় উক্ত আমিন সিএনজি চালক হলেও, তিনি গোপনে ইয়াবা কারবারের অন্যতম মাঝি। তাদের বসবাসকৃত ভিটে-মাটি সরকারী পিএফ ভূক্ত তালিকায় অন্তর্ভূক্ত থাকলেও ওই পিএফ ভূমির বিশাল অংশের মাটি কেটে ইয়াবা-কারবারী হামিদুল হক আমিন এবং বার্মাইয়া জামাল ও খুরশিদা বড় বড় বাড়ি, দালান বানালেও, অসহায় হাজেরা বেগমের ছোট্ট বসতভিটার প্রতি তাদের লোলুপদৃষ্টির পিছু-ছাড়েনি দীর্ঘদিন। ফলে, ওই অসহায় হাজেরার বসতঘরের সীমা-রেখার গাছ, বাশ কর্তন ও টেংড়া-ভেড়া বারে বারে ভাঙ্গচূর পূর্বক অতীতে সীমা ঠেলে তাঁর কিছু অংশ জবর-দখল করে নেয় সঙ্গবদ্ধরা।
প্রত্যক্ষদর্শী লোকজন জানান, ঠিক একই নিয়মে ঘটনার ওইদিন রাত ৮ টার দিকে উক্ত কারবারী হামিদুল হক আমিন ও তার পিতা (গরু বেপারী) জালাল উদ্দিন সীমানায় এসে অশ্লীল ও অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকলে, ঘর থেকে হাজেরা বেগম উক্ত গালমন্দের কথা জানতে চাইলে তর্কের এক পর্যায়ে কারবারী আমিন ও জালাল উদ্দিন তাঁর বসত ভিটার সীমানার ভেড়া ভেঙ্গে ফেলে এবং তাদের সঙ্গবদ্ধদলসহ অনধিকার প্রবেশে হাজেরার ঘরের দোয়ারে কোড়াল আঘাত করার মাধ্যমে ঘরে প্রবেশকরে হাজেরা বেগমকে মারতে থাকে এবং তাঁকে টেনে হিছড়ে মাটিতে ফেলে টেনে, পা দিয়ে উপর্যুপরি জোরে আঘাত করার পর তাঁর এক মুষ্টি মাথার চুলও উঠিয়ে ফেলে।
মায়ের এমন অবস্থার খবর পেয়ে বিকাশ-ব্যবসায়ী ও হরিণ মারা আলোকিত সমাজ-কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি ছেলে নূরুল কবির মাকে উদ্ধার করার জন্যে এগিয়ে এলে ওই সঙ্গবদ্ধ সন্ত্রাসীরা তাঁকে উপর্যুপরি কিল, ঘুষি ও লাটি-সোটা এবং লোহার চিকন সাবাল দ্বারা পিঠে ও কোমরে স্বজোরে আঘাত করে, পরে একদম মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে তাঁর সাথে থাকা প্যন্টের পকেটে বিকাশ ব্যবসার ২৭,০০০/- সাতাইশ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে দ্রুত চলে যায়। ওই সঙ্গবদ্ধ অপরাধী-চক্রের আড়াল ঘেষা নিঝুম এলাকার বসতঘরে কন-কনে শীতের গভীর রাত পর্যন্ত অসহায় মা ও ছেলে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকলেও খবর পাওয়া মুশকিল। পরে, খবর পেয়ে রাত ১২ টার দিকে আহত নূরুল কবিরের ভগ্নীপতি ও তাঁরই দুই জন বন্ধু ছুটে এসে তাঁদের উদ্ধার করে উখিয়া উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্যে নিয়ে যান।
এমতাবস্থায়, উক্ত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত-শাস্তি নিশ্চিত করার জন্যে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে জোরদাবী জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী দপ্তরের প্রতি।