জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই আলোচনায় উঠে এসেছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এ নির্বাচনকে ঘিরে তৎপরতা শুরু করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তাদের জন্য বাড়তি সুবিধা নিয়ে এসেছে পবিত্র মাহে রমজান। আয়োজন করছেন ইফতার পার্টি। ক্ষমতাসীন দল বিএনপির পাশাপাশি সক্রিয় রয়েছে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ বেশ কয়েকটি দল।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান বলেন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রায় ৮ হাজার রোজাদারের জন্য আয়োজন থাকবে। এ আয়োজনে দলীয় নেতা-কর্মী থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ থাকবেন। আমাদের মহানগর বিএনপির আগে ও পরে বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়েও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। নির্বাচন পরবর্তী এসব আয়োজনে নেতা-কর্মীরা বেশ উচ্ছ্বসিত।
জানা গেছে, রমজানের শুরু থেকে জেলা ও নগরীর বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলোর ইফতার আয়োজন। আজ নগরীর জমিয়তুল ফালাহ মসজিদে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির উদ্যোগে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এতে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। বিশেষ অতিথি থাকবেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ও সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এ ইফতার মাহফিলে রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, পেশাজীবী প্রতিনিধিসহ প্রায় ৮ হাজার রোজাদারের ইফতারের আয়োজন থাকবে। এর আগে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম-১১ আসনের এমপি অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী নিজ নির্বাচনি এলাকার বাসিন্দাদের নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর স্টেডিয়ামে ইফতারের আয়োজন করেন। সেই ইফতারেও প্রায় আট হাজার মানুষ অংশ নেন। গত ১ মার্চ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর উদ্যোগে নগরীর জিইসি কনভেনশন সেন্টারে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। ২ মার্চ নগরীর সাফা আর্কেড কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজন করা হয় চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতে ইসলামীর ইফতার মাহফিল। একইদিন নগরীর দি কিং অব চিটাগাং এ জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি চট্টগ্রাম বিভাগীয় ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে। এতে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ নেতারা অংশ নেন। এ সময় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আগামী নির্বাচনে এনসিপি আলাদাভাবে অংশ নেবে এবং মেয়রও হবে এনসিপির এমন মন্তব্য করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
এ ছাড়াও নগরী ও জেলায় বিএনপির বিভিন্ন ইউনিট সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া কামনা ও ইফতার, আবার স্থানীয় সরকার পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের সম্ভাব্য প্রার্থীদের উদ্যোগে নিজ নিজ এলাকায় চলছে ইফতার আয়োজন।
বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর স্থানীয় সরকার বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি এখন সর্বত্র আলোচনায়। জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা স্থানীয় লোকজনের সমর্থনের পাশাপাশি প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের আশীর্বাদ পেতে চালিয়ে যাচ্ছেন নানা তদবির। তাই নিজেরা যেমন বিভিন্ন স্থানে ইফতারের আয়োজন করছেন তেমনি দলের প্রভাবশালী নেতারা কোনো ইফতার আয়োজনে উপস্থিত থাকলে সেখানেও তারা হাজিরা দিচ্ছেন।