মিয়ানমার সামরিক জান্তা ও বিদ্রোহী শসস্ত্র গোষ্টির মধ্যকার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মুসলিম রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি রাখাইন চাকমা ও তঞ্চাঙ্গা জাতির ৫৬ জন নারী পুরুষ নৃগোষ্টি অনুপ্রবেশ করছে। শসস্ত্র বিদ্রোহীদের গোলাগুলির কারণে প্রাণ বাঁচাতে বাইশারী ও ঘুমধুমের স্থলপথে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে। তারা বর্তমানে রোহিঙ্গা শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) যারিন তাসনীম সরেজিন পরিদর্শন করে গনমাধ্যমে জানান, রাখাইন থেকে মগ ও চাকমা ৫৬ জনের একটি উদ্বাস্ত উখিয়ায় আশ্রয় শিবিরে এসে পৌছেছে। তাদের খাদ্য ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এবং বিষয়টি উর্ধতনের কাছে অবহিত করা হয়।
মিয়ানমার সামরিক ও বিদ্রোহী আরাকান আর্মির মধ্যকার চলমান সংঘর্ষে শান্তিতে বসবাসের কোনো পরিবেশ নেই। উপায়ান্তর না দেখে মুসলিম, চাকমা, হিন্দু ও রাখাইন তঞ্চাঙ্গা নৃগোষ্টিরা প্রাণে বাঁচতে পালিয়ে আসছে বাংলাদেশে।
গত ৩ মাসের বেশি সময়ধরে চলা এ যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের উখিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত পার হয়ে আসছে মিয়ানমারের নাগরিক।
উখিয়া নাইক্ষংছড়ি ও টেকনাফ সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার অংশে ভেসে আসছে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ। গত মঙ্গলবার থেকে বুধবার পর্যন্ত উখিয়া-নাইক্ষ্যংছড়ির স্থানীয়রা বিস্ফোরণের শব্দে রাতের ঘুম হারাম হয়ে যায়। রাজ জেগে ভীতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে স্থানীয়রা।
বুধবার দুপুর থেকে টেকনাফ সীমান্তের হ্নীলা হোয়াইক্ষং, উঞ্চিপ্রাঙ্ক, নাইক্ষংছড়ির ঘুমধুম, বাইশারী তুমব্রুসহ বিভিন্ন এলাকার স্থানীয়রা গোলাগুলির শব্দাতঙ্কে ভীতির মধ্যে রয়েছে।
পালংখালীর চেয়ারম্যান এম গফুর চৌধুরী জানান, ওপারে সংঘাতের কারণে সীমান্তের কাছে না যেতে বারন করা হয়েছে। পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গফুর চৌধুরী বলেন, একটানা ৩ মাস এ অঞ্চলে যদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রায় ১০ হাজার স্থানীয় পরিবার দুর্বিসহ দিন কাটাচ্ছে।
সাবরাং ইউপি সদস্য মোহাম্মদ শরিফ বলেন, ৩ মাসধরে চলা এ যুদ্ধ পরিবেশে মানুষ আতঙ্কে রয়েছে।
হ্নীলার ইউপির চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী জানান, ওপারে বিস্ফোরণের বিকট শব্দে এলাকার বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি কেঁপে উঠছে। সীমান্তের লোকজন শান্তিতে ঘুমাতে পারছে না। বিশেষ করে, শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে।
এরই মধ্যে নতুন করে ঘুমধুম বাইশারী সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা পরিবারের ৬৫ সদস্য অনুপ্রবেশ করেছে।