শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ০৬:০৯ অপরাহ্ন

নরসিংদী উপজেলা চেয়ারম্যানের কক্ষে ভাঙচুর, জরিমানা আদায়

খায়রুল ইসলাম নরসিংদী / ৮১ জন পড়েছে
প্রকাশ: শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ০৬:০৯ অপরাহ্ন

 

নরসিংদী প্রতিনিধিঃ নরসিংদী সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের অফিস কক্ষে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে এ ঘটনার মীমাংসা করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। এর আগে গত সোমবার দুপুরে অফিস কক্ষে এ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, গত সোমবার সদর উপজেলার করিমপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মো. আসাদুজ্জামান কাজলের নেতৃত্বে কয়েকজন লোক ইউএনও’র সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে উপজেলা পরিষদে আসেন। এ সময় ইউএনও অন্য একটি মিটিংয়ে ব্যস্ত থাকায় তাদের ওয়েটিং রুমে বসতে বলা হয়। তারা ওয়েটিং রুমের পাশে অবস্থিত সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের অফিস কক্ষের দরজা খোলা পেয়ে ভেতরে ঢোকেন। বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান কাজলের নেতৃত্বে কক্ষে প্রবেশ করা লোকজন সদ্য অপসারণ হওয়া আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নির্বাচিত চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের ক্রেস্ট ও নামফলক দেখতে পান। এসব দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে আসাদুজ্জামান কাজল ও সঙ্গে থাকা লোকজন ভাঙচুর শুরু করেন। এ সময় লকার ভেঙে উপজেলা পরিষদের নাইট গার্ড মাজেদুল ইসলামের ব্যাগ, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যেতে দেখা যায় সিসিটিভি ফুটেজে।

এ ঘটনায় উপজেলা পরিষদের পক্ষ হতে আইনগত কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। তবে মঙ্গলবার সকালে নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা সুলতানা নাসরীন বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান কাজল ও তার লোকজনকে ডেকে এনে ২০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করে মীমাংসা করেছেন বলে জানা গেছে।

উপজেলা পরিষদের নৈশ প্রহরী মাজেদুল ইসলাম বলেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের কক্ষে ৬-৭ জন ব্যক্তি ভাঙচুর করেন এবং কক্ষে থাকা আমার ব্যক্তিগত আলমারির ড্র‍য়ার থেকে নগত ১১ হাজার টাকা, একটি মোবাইল ও আরও কিছু জিনিসপত্র নিয়ে যায়। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে সনাক্তকরণের পর ও ইউএনও অফিসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শহিদুল্লাহর মধ্যস্থতায় মঙ্গলবার আমাকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ১৫ হাজার টাকা দিয়েছেন। অন্যান্য ভাঙচুরের ঘটনায় আরও ৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।’

তবে, নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যলয়ের উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. শহিদুল্লাহ সমঝোতার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে এ বিষয়ে মন্তব্য করবেন না জানিয়ে কল কেটে দেন। পুনরায় কল দেয়া হলে তিনি কল রিসিভ করেন নি।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত করিমপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মো. আসাদুজ্জামান কাজল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি ইউএনও’র পাশের কক্ষে ছিলাম। এ ঘটনা আমার জানা নাই, জরিমানা দেয়ার বিষয়টিও আমার জানা নাই। কে বা কারা ভাঙচুর চালিয়েছেন, আমার জানা নেই। এ ঘটনার সাথে আমার সম্পৃক্তা নেই।’

নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসমা সুলতানা নাসরীন (ইউএনও) বলেন, ‘কয়েকটি ক্রেস্ট ভাঙচুর করেছে, এছাড়া তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতি করেনি। বিষয়টি ইতোমধ্যে আপস করে দেয়া হয়েছে। ক্ষতিপূরণ দেয়াসহ ছিনিয়ে নেয়া ব্যাগ ও জিনিসপত্র ফেরত দিয়ে গেছেন তারা।

এদিকে এ ঘটনায় বিএনপির ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন নরসিংদী সদর উপজেলার আলোকবালী ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুল কাইয়ুম সরকার, হাজিপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক জাহিদুল কবির ভূঁইয়া ও নজরপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক জালাল উদ্দিন।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে আব্দুল কাইয়ুম সরকার বলেন, ‘নরসিংদী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক খায়রুল কবির খোকন ভাইয়ের পক্ষ থেকে আমাদের ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা প্রকৃত কারণ খোকন ভাইকে জানিয়েছি এবং ভাঙচুরের জন্য কিছু টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হয়েছে। আমাদের কাজ সঠিক তথ্য জানানো, এ বিষয়ে দলীয় হাই-কমান্ড প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন, এর বাইরে আমরা কিছু জানি না।’

স্থানীয়রা জানান, করিমপুর ইউপির পলাতক চেয়ারম্যান মমিনুর রহমান আপেলকে চেয়ারম্যান পদে বহাল রাখার তদবির নিয়ে ইউএনও অফিসে গিয়েছিলেন বিএনপি নেতা মো. আসাদুজ্জামান কাজল সহ অন্যান্যরা। আসাদুজ্জামান কাজল চেয়ারম্যান মমিনুর রহমান আপেল এর আত্মীয় বলে জানান তারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরও খবর

Calendar

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  
https://youtube.com/@simantobangla1803
এক ক্লিকে বিভাগের খবর