৮টি স্বর্ণের বার ও দেড় কোটি টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকারসহ রোহিঙ্গা মা ছেলেকে আটক করেছে র‍্যাব-৭।

SIMANTO SIMANTO

BANGLA

প্রকাশিত: জুলাই ৩০, ২০২২

 

নিজস্ব প্রতিনিধি ;
কক্সবাজার-মিয়ানমার সীমান্তে র‌্যাব-৭, (চট্টগাম) এর একটি বিশেষ দল মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর সময় জানতে পারে যে, ইয়াবার বিক্রির লভ্যাংশ দিয়ে রোহিঙ্গারা সরকারী রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে স্বর্ণের বার ও বিস্কুট উখিয়া ও টেকনাফের ক্যাম্পসমূহ থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাচার করে আসছে। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম এই অবৈধ স্বর্ণের বার চোরাচালান চক্রের উপর নজরদারি বৃদ্ধি করে এবং এক পর্যায়ে জানতে পারে যে, চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুন্ড থানাধীন ছলিমপুর ইউপির ১০ নং ওয়ার্ডস্থ জঙ্গল ছলিমপুরের একটি ভাড়া বাসার ভিতর স্বর্ন মজুদ করেছে কতিপয় চোরাকারবারি। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে (৩০ জুলাই ২০২২) বেলা ১ টার দিকে র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম এর একটি আভিযানিক দলটি উল্যেখিত স্থানে অভিযান চালিয়ে আসামী ১। আসমত উল্লাহ (২৪), পিতা-মৃত মোজাহের আহমেদ (সীতাকুণ্ড) ২। মোছাঃ ছহুরা খাতুন (৬৮), স্বামী-মৃত মোজাহের আহমেদ, (সীতাকুণ্ড) জেলা-চট্টগ্রাম এর আটক করে র‍্যাব।

পরবর্তীতে উপস্থিত জন সম্মুখে আসামীদের নিজ হেফাজতে থাকা ঘরের ভেতর তল্লাশি চালিয়ে ১টি প্লাষ্টিকের বাটির ভেতর লাল শপিং ব্যাগ দ্বারা মোড়ানো অবস্থায় চোরাচালানের মাধ্যমে সরকারী রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে আনা ৮ টি স্বর্ণের বার, ৫ টি স্বর্ণের চেইন , স্বর্ণের বালা ১ জোড়া, স্বর্ণের কানের দুল ৩ জোড়া, স্বর্ণের আংটি ৩ টি, স্বর্ণের লকেট ৪ টি উদ্ধারসহ উক্ত আসামীদের গ্রেফতার করা হয়। উল্লেখ্য, আটককৃত ৮টি স্বর্ণের বারের আনুমানিক মূল্য ১কোটি টাকা এবং বাকী উদ্ধারকৃত স্বর্ণালংকারের আনুমানিক মুল্য প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা বলে জানিয়েছেন র‍্যাব।

গ্রেফতারকৃত আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানা যায় , তারা মূলত বাংলাদেশী নাগরিক নন, মিয়ানমারের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা। ২০১২ সালে তারা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে এবং সর্বশেষ তারা জঙ্গল সলিমপুরে অবস্থান করে এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলো। গ্রেফতারকৃত আসামী আসমত উল্লাহ ২০১৪ সালের জুন মাস পর্যন্ত কক্সবাজার জেলার ইদগাহে অবস্থান করে অতঃপর ২০১৪ সালে এজেন্সির মাধ্যমে তার এলাকার চাচা আব্দুস সালাম তাকে পাসপোর্ট করে ভিসা দিয়ে সৌদি আরবে নিয়ে যায়। সৌদি আরবে সে ২০১৪ সাল থেকে ২০২০ সালে আগষ্ট মাস পর্যন্ত অবস্থান করে। ২০২০ সালে সে অবৈধভাবে অবস্থান করায় সৌদি পুলিশ তাকে আটক করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়। বাংলাদেশে আসার পর ২০২০ সালের ডিসেম্বরে সে বিয়ে করে ইদগাহ হতে স্ত্রী ও মা সহ জংগল সলিমপুর চলে আসে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধারকৃত স্বর্ণের আনুমানিক মূল্য ১কোটি ৫৩ লাখ টাকা ।

গ্রেফতারকৃত আসামী এবং উদ্ধারকৃত স্বর্ণ সংক্রান্ত বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।