শেকল বন্ধি মুক্ত গনমাধ্যম

SIMANTO SIMANTO

BANGLA

প্রকাশিত: মে ৮, ২০২১

সম্পাদকীয়ঃ

মুক্ত গনমাধ্যমের বুলি আওড়ানো সাংবাদিকেরাই এক একজন রাজনৈতিক নেতা। এক একটি রাজনৈতিক দলের প্রধানের ভুমিকা রাখেন তারা। অনেকেই প্রশ্ন করতে পারেন কিভাবে?
কিভাবে সেটা গনমাধ্যম কর্মীরাই বিবেচনা করুক।
যখন কোন গনমাধ্যম কর্মী একচ্ছত্র একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে সংবাদ পরিবেশন করে, সেটা হোক সরাসরি অথবা মৌন, বা সাংক্ষেতিক ভাবে,তখন মুক্ত গনমাধ্যম শব্দটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়। কারন সাংবাদিকতা এমন একটি প্লাটফর্ম যেখানে পক্ষপাতদুষ্ট সংবাদ পরিবেশন মানেই গনমাধ্যমকে সমালোচনায় ফেলা। আর আমরা এমনই জাতী যা সহজেই সেটি রপ্ত করে ফেলি।

এবার আসি মুক্ত গনমাধ্যম কি?
গতো কদিন আগে মুক্ত গনমাধ্যম দিবসে অসংখ্য সাংবাদিক নেতাকে দেখলাম, সাংবাদিকদের অধিকার আদায় আর মুক্তগনমাধ্যমের দাবীতে চিল্লাইতে চিল্লাইতে মুখে ফেনা তুলে ফেলেছেন। তাদের কাছে বিনীত প্রশ্ন, দয়া করে একটু বলবেন, মুক্ত গনমাধ্যম কি? আর,আপনার সংবাদ সংস্থাটি কতোটুকু স্বাধীন ভাবে কাজ করতে পারে বা করে। কোন না কোন অদৃশ্য শক্তির কারিশমায় আপনার পত্রিকাটিও কারো না কারো শেকলে বন্ধি। আপনার কলম হাত কড়া পরানো, ঠিক মতো চলতে পারেনা। চলবে কিভাবে। একটা পত্রিকা চালাতে যে পরিমান খরচ তার এক তৃতীয়াংশ ও কোন পত্রিকার সার্কুলেশন বিভাগ পায় কিনা সন্দেহ।একটা বিজ্ঞাপন সংগ্রহের জন্য ঔষুধ কোম্পানীর সেলস ম্যানের মতো প্রতিষ্টানের দ্বারে দ্বারে দৌড়াতে হয়।

আর পোর্টালের কথা তো বলারই দরকার নেই, কম বেশি সবাই জানে। বর্তমান আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় একটি নিউজ পোর্টালের গুরুত্ব কোন ভাবেই ছোট করে দেখার মতো নয়। সবার আগে গুরুত্ব,পুর্ন সংবাদ গুলো কিন্তু প্রকাশ করে নিউজ পোর্টাল গুলো। অতচ অনেকেই কঠাক্ষ করে বলেন এদেশে এতো ভুইফোড় পোর্টালের দরকার কি? বুকে হাত দিয়ে কেউ বলতে পারবেন, সকালে ঘুম থেকে উঠে মোবাইলে হাত দিয়েই প্রথমে পোর্টালে চোখ বুলাননি? কিন্তু পরিতাপের বিষয় এই একটি পোর্টাল চালাতে কয়জন কর্মী নিরলস পরিশ্রম করে যায় রাত দিন। দিন শেষে হাতে তাদের কানাকড়ি ও জোটেনা। তারা এর জন্য কোন পারিশ্রমিক বা বেতন ও পাননা, অতচ পোর্টাল কেনা থেকে শুরু করে প্রতি মাসে ডোমেইন ডেভলপারকে টাকার যোগান ঠিকই দিতে হয়। তার উপর আছে রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক চাপ। এ,নিউজ করলেন কেনো, অমুখ নিউজ করবেন না, হেন তেন কতো কিছু। মাঝে মধ্যে অনেক নিউজের ক্ষেত্রে অসহায় সংবাদ কর্মীদের মামলার সম্মুখীন ও হতে হয়। শেষ মেষ ঘুরে ফিরে যেই লাউ সেই কদু, মৌল্লার দৌড় মসজিদ পর্যন্ত, মানে নেতার দ্বারস্থ হওয়া ছাড়া উপায় থাকেনা, বাঁচার জন্য। তাহলে গনমাধ্যমের স্বাধীনতা আর থাকলো কোথায়। ঘুরে ফিরে তাদেরই ছায়াতলে গিয়ে সংবাদ মাধ্যম বলেন পোর্টাল বলেন চালাতে হয়।
এবার আসি মুক্ত গনমাধ্যম নিয়ে বুলি আওড়ানো সাংবাদিক নেতাদের কথায়। যারা বিভিন্ন টকশোতে সাংবাদিকদের অধিকার আর মুক্ত গনমাধ্যমে নিয়ে গরম গরম বক্তব্য প্রসব করেন যার কারনে উনাদের পাশেই পানির গ্লাস টি রাখতে হয়, কারন মিথ্যে অবান্তর বুলি আওড়ালে কিন্তু গলা বেশিরভাগ সময় শুকিয়ে আসে। উনারা গনমাধ্যমের কথা বলতে গিয়ে কখন যে একজন রাজনৈতিক নেতা বনে যান উনারা নিজে সেটা টের না পেলেও পাবলিক কিন্তু ঠিকই ধরে ফেলেন। আমাদের পাশের রাষ্ট্র ভারতের গনমাধ্যমের স্বাধীনতা কতোটুকু তা দেখেও অন্তত উনাদের পাবলিক প্লাটফর্মে এসে সত্যটা তুলে ধরা উচিত। তবেই এদেশের গনমাধ্যম শুদ্ধ গনমাধ্যমে রূপ পেতো, নইলে হাজার বছরেও সম্ভব নয়  এদেশে একটি স্বাধীন, মুক্ত গনমাধ্যম প্রতিষ্টা করা।

আমার এ লেখা কাউকে কটাক্ষ কিংবা ব্যক্তিগত আক্রমন করার জন্য নয়। তবুও কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আন্তরিকভাবে দুঃখিত।

লেখকঃ মোসলেহ উদ্দীন
প্রকাশক ও সম্পাদক
সীমান্তবাংলা ডট কম
01830474793