মঙ্গল. অক্টো. ২৩, ২০১৮

রোহিঙ্গা মাঝি কর্তৃক স্থানীয় জমিদারের উপর দফায় দফায় হামলার অভিযোগ

শাহনেওয়াজ জিল্লু ♦ মায়ানমার থেকে পালিয়ে এদেশে আশ্রয় নেওয়া নতুন রোহিঙ্গারা ক্রমশ হিং¯্র হয়ে উঠছে। এমনকি জড়িয়ে পড়ছে নানা অপরাধকর্মেও। থেমে থেমে জানান দিচ্ছে নানা অন্তঃর্ঘাত ও সহিংস মনোভাবের। নিজেদের মধ্যে খুনোখুনির ঘটনাতো ঘটছেই সেই সাথে আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে স্থানীয়দের প্রতিও। যারা তাদের আশ্রয় দিয়ে জমির উপর জায়গা করে দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধেই ধারণ করছে রুদ্রমূর্তি।

অভিযোগে জানা যায়, ক্যাম্প-১৬ এর কিয়দংশ জমি দানকারী স্থানীয় আবু তৈয়ব। এই তৈয়বের বিরুদ্ধেই অজ্ঞাত অস্ত্রধারীদের সহায়তায় হামলা চালিয়েছে উক্ত ক্যাম্পের জেষ্ট্য মাঝি সেলিম। শুধু তাই নয় গত এক বছরে একে একে কয়েক দফা হামলা করেছে ক্যাম্প-১৬ এর এই চীফ মাঝি। এব্যাপারে বিভিন্ন সময়ে প্রতিকার চেয়েও ফলাফল পাননি বলে প্রতিবেদকের কাছে অভিযোগ আকারে জানান।

সেলিমের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, সে তার দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় বসবাসরত রোহিঙ্গাদের উপরও নির্যাতন চালাচ্ছে। দিনে দিনে এ নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। বিভিন্ন কৌশলে সে তার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিকট হতে জোরপূর্বক বিচার শালিসের নামে অর্থ আদায় করে চলেছে। যার পরিমাণ কখনো ২ হাজার, কখনো ৩ হাজার বা ৫ হাজার টাকা। তাদের জনগোষ্ঠীর শীর্ষ আলেম ওলামাদেরও বিভিন্নভাবে লাঞ্চিত ও অপদস্থ করছে বলে অভিযোগ করেছে উক্ত ক্যাম্পের মসজিদের খতিব ও ইমাম মাওলানা কবির আহমদ। জনগণের প্রতি জুলুম না করার পরামর্শ দিয়ে চীফ মাঝিকে অনুরোধ করায় উক্ত মাওলানাকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি ও নির্যাতন চালিয়েছে বলে দাবী করেছে। এমনকি তাকে রোহিঙ্গা বিদ্রোহী গোষ্ঠী আলেকিনের সদস্য বলে অভিযোগ এনে নানাভাবে হয়রানি করা হয়েছে বলেও জানায় মাওলানা কবির। চীফ মাঝি সেলিমের নিয়ন্ত্রনহীন বেপরোয়া মনোভাবের কারণে দিনে দিনে রোহিঙ্গাদের মধ্যে ক্রমশ সামাজিক পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে বলে দাবী করেন স্থানীয় লোকজন।

এর ফলে নিকটতম ভবিষ্যতে বড় ধরণের সহিংসতার আশঙ্কা করছে ক্যাম্প-১৬স্থ স্থানীয় লোকজন ও আশ্রিত রোহিঙ্গারা।
এসব ঘটনার ব্যাপারে জানতে চাইলে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী আক্তার জানিয়েছেন, মাঝি সেলিম দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে বসবাস করছে। সে ইতিপূর্বে ইয়াবাসহ আটক হয়েছিলো। সেলিম রাখাইনে রোহিঙ্গাদের নির্যাতনকারী বর্মী বাহিনীর স্টাইলে ক্যাম্পের রোহিঙ্গাদের কৌশলে নির্যাতন চালাচ্ছে। বিভিন্ন ইস্যুতে তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করছে। স্থানীয় জমিদারের উপরও সে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কয়েক দফা হামলা চালিয়েছে। এসব কাজে সে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করছে। উর্ধত্বন কর্তৃপক্ষ মিথ্যা তথ্য দিয়ে নির্দোষীদের দোষী বানিয়ে স্বার্থ হাসিল করছে।

এব্যাপারে জানতে ক্যাম্প-১৬ এর ইনচার্জ মাহফুজুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে কথা হয়। তিনি অভিযোগদাতাদের ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন এবং অভিযোগ শোনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

সর্বশেষ খবর