বৃহস্পতি. জুলাই ১৮, ২০১৯

রোহিঙ্গা নিয়ে প্রশ্নে উত্তেজিত মিয়ানমারের কর্মকর্তারা

সীমান্ত বাংলা > রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন-হত্যার বিষয়ে বাংলাদেশের সাংবাদিকের প্রশ্নে ক্ষেপলেন মিয়ানমারের কর্মকর্তারা। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর পিলখানায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবির সদরদপ্তরে আয়োজিত বিজিবি ও মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পলিশ-বিজিপির যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রতিক্রিয়া দেখায় মিয়ানমার প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সীমান্তে মাদক, অস্ত্র, নারী ও শিশু পাচারসহ সবধরনের আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধের লক্ষ্যে সমন্বিত যৌথ টহল নজরদারি বৃদ্ধিতে উভয়পক্ষ যোগাযোগ এবং তথ্য বিনিময়ে সম্মত হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনের প্রশ্নোত্তর পর্বে রোহিঙ্গা নির্যাতন প্রসঙ্গে জানতে চান একজন সাংবাদিক। আর এমন প্রশ্নে ক্ষেপে ওঠেন মিয়ানমারের কর্মকর্তারা। প্রশ্ন শুনেই ‘অবজেকশন’ বলে মিয়ানমারের বিজিপির প্রতিনিধি দলের একাধিক সদস্য দাঁড়িয়ে যান। তারা রোহিঙ্গা ইস্যুতে কোনও কথা না বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।

বিজিবির অতিরিক্ত মহাপরিচালক আনিছুর রহমান বলেন, ‘আমাদের এই সীমান্ত সম্মেলনে দুই দেশের সীমান্তের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। রোহিঙ্গা ইস্যুটি অনেক বড় বিষয়। এটা নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনা হচ্ছে। মন্ত্রণালয় পর্যায়ে আলোচনার পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা কাজ করছে। এর আগে গত সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় বিজিবির সদর দপ্তর পিলখানায় বিজিবি ও মিয়ানমারের বিজিপির সিনিয়র পর্যায়ে চার দিনব্যাপী এ সীমান্ত সম্মেলন শুরু হয়। মিয়ানমারের চিফ অব পুলিশ জেনারেল স্টাফ মায়ো থানের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের মিয়ানমার প্রতিনিধিদল এ সীমান্ত সম্মেলনে যোগ দেন। এছাড়া প্রতিনিধিদলে পুলিশ ফোর্সের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও আছেন।

বিজিবির অতিরিক্ত মহাপরিচালক আনিছুর রহমানের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল সম্মেলনে অংশ নেয়। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়াও স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড এবং মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা আছেন। সম্মেলনে উত্থাপিত বিষয়গুলোর মধ্যে মাদকদ্রব্য বিশেষ করে ইয়াবার ব্যাপকতার বিষয়ে উভয় পক্ষ থেকে এবং মিয়ানমারের নাগরিকদের সীমান্ত অতিক্রমসহ সীমান্তে গুলিবর্ষণের ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

একইসঙ্গে সীমান্তের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় এ ধরনের কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি বন্ধে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া মিয়ানমারের পক্ষ থেকে বলা হয়, এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বন্ধে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। উভয় পক্ষই বর্ডার লিয়াজোঁ অফিসের কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে। এ প্রসঙ্গে মিয়ানমার পক্ষ থেকে জানানো হয়, মংডুতে ইতোমধ্যে একটি বর্ডার লিয়াজোঁ অফিস স্থাপন করা হয়েছে।

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, টেকনাফ উপজেলায়ও অনুরূপ একটি বর্ডার লিয়াজোঁ অফিস স্থাপন করা হয়েছে যা সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় নতুন দিগন্তের সূচনা করবে। দুই দেশের সিনিয়র পর্যায়ের পরবর্তী সীমান্ত সম্মেলন মিয়ানমারের নেপিদোদে ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে আয়োজনের ব্যাপারে উভয় পক্ষ নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে বলেও জানানো হয়।

-ঢাকাটাইমস/১২জুলাই

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.