মঙ্গল. অক্টো. ২৩, ২০১৮

রোহিঙ্গাদের উৎসাহ দিতে এনজিও কারিতাসের ‘উৎকোচ’ কর্মসূচী!

শাহনেওয়াজ জিল্লু, কক্সবাজার ♦ ক্রমশ উগ্র ও হিংস্র হয়ে উঠা রোহিঙ্গা নাগরিকদের এদেশে দীর্ঘস্থায়ী করতে অভিনব কর্মসূচী হাতে নিয়েছে এনজিও কারিতাস। রোহিঙ্গাদের সাথে বসবাসকারী স্থানীয় কিছু লোকজনকে স্টোভসহ গ্যাস সিলিন্ডার প্রদানের মাধ্যমে একর্মসূচী শুরু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে নগদ টাকা প্রদান বা দুগ্ধজাত খামারী পশু প্রদানেও উন্নীত করা হতে পারে বলে জানিয়েছে কর্মসূচীতে আগত দায়িত্বশীল কর্মকর্তাবৃন্দ। আর এটাকেই কারিতাসের পক্ষ থেকে স্থানীয়দের ‘ঘুষ প্রদান’ হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন উখিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক। এনিয়ে স্থানীয় লোকজনদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শুরু হয়েছে নানা আলোচনা সমালোচনার। স্থানীয়দের কেউ কেউ বলছেন, তাহলে কি রোহিঙ্গাদের স্থায়ী করতেই এনজিও কারিতাসের এমন কর্মসূচী??

মঙ্গলবার ২অক্টোবর উখিয়ার রাজাপালংয়ে ফলিয়াপাড়া আলিমউদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে সংগঠনটির পক্ষ থেকে স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে “এলপিজি সিলিন্ডার ও চুলা” বিতরণের উদ্ভোধনী কর্মসূচী পালন করা হয়। এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মানোন্নয়ন ও এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবি দফা তোলে ধরেন। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি কারিতাসের চলমান এই কর্মসূচীকে ঘুষ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং এটা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকার আহŸান জানান স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে। এব্যাপারে জানতে চাইলে কারিতাসের ‘কর্মসূচী প্রধান’ এ.জে.এম. মাজহারুল ইসলামের কাছেও কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।

এছাড়াও উক্ত উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম (এনডিসি) তার বক্তব্যে বলেন, রোহিঙ্গারা আমাদের মতোই সম্মানিত লোক। তাদের মাঝেও আমাদের মতই চেয়ারম্যান মেম্বার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়–য়া লোকজন রয়েছে। একারণে তাদের আপন করে নিতে হবে। তাদের সাথে ঝগড়া বিবাদে না জড়িয়ে সহাবস্থান আহŸান জানান। রোহিঙ্গাদের দ্বারা কোনো ভাবে কেউ আক্রান্ত হলে আইন নিজের হাতে তোলে না নিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকায় দায়িত্বরত পুলিশ প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের অবহিত করার পরামর্শও দেন তিনি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশেষ অতিথি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামানও প্রায় একই কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, রোহিঙ্গাদের কারণে স্থানীয় জনগোষ্ঠীরা বিভিন্ন ভাবে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। একারণে জনদুর্ভোগ লাগব করতে সরকার বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

সভাপতির বক্তব্যে রাজাপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর চৌধুরী বলেন, চলমান গ্যাস প্রদান কর্মসূচীর চাইতেও গুরুত্বপূর্ণ এখন এখানকার জনগোষ্ঠীর শিক্ষার মানোন্নয়ন ঘটানোর। অত্র এলাকার লোকজন এখনও শিক্ষাদীক্ষায় অনগ্রসর। এজন্যে তিনি স্থানীয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় কর্মসূচী কামনা করেন সংগঠনটির কাছে। এছাড়াও তিনি রোহিঙ্গা দোকানদার ব্যবসায়ীদের কারণে স্থানীয় দোকানদাররা কীভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন এর একটি চিত্র তোলে ধরেন। এব্যাপারে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

এদিকে নানা অব্যবস্থাপনা ও অসংলগ্ন তৎপরতার মধ্য দিয়ে কর্মসূচী পালন করেছে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা কারিতাস। সংগঠনটির পক্ষ থেকে দাবী করা হয়েছে, তারা উদ্ভোধনী কর্মসূচীর আগেই আরও ৫শ’ ‘এলপিজি ও চুলা’ স্থানীয়দের মাঝে প্রদান করেছে। তাদের ভাষ্য মতে উক্ত কর্মসূচী বিগত কয়েক মাস আগে থেকে শুরু হলেও ২অক্টোবর মঙ্গলবার উদ্ভোধনী কর্মসূচী পালন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে আগত প্রধান অতিথিও উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে কর্মসূচীর উদ্ভোধন ঘোষণা করেন। উদ্ভোধনের আগেই কীভাবে ৫শ’ সুবিধা ভোগীর হাতে গ্যাস সিল্ডিন্ডার ও স্টোভ প্রদান করা হলো জানতে চাইলে কর্মসূচী প্রধান মাজহারুল ইসলাম বলেন, আজকের অনুষ্ঠানটি মূলত অতিথিদের অনুরোধে করা হয়েছে। আমরা এর আগে থেকেই গ্যাস সিলিন্ডার দেওয়া শুরু করেছি। এছাড়াও উক্ত অনুষ্ঠানে ইউএনএইচসিআর-এর সিনিয়র ফিল্ড কর্মকর্তা ওলেজ যাদনভ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা থাকলে তিনি উপস্থিত ছিলেন না। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মেনুয়াল পেরেরা নামে আইওএম-এর প্রতিনিধি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

সর্বশেষ খবর