মঙ্গল. অক্টো. ২২, ২০১৯

রাবির উপ-উপাচার্যের টাকা লেনদেনের ফোনালাপ ফাঁস

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়ার টাকা লেদেনের একটি ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে। ফোনালাপে চৌধুরী মো. জাকারিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর সঙ্গে টাকা লেনদেনের বিষয়ে আলাপ করেন।

মঙ্গলবার ৫৫ সেকেন্ডের এই ফোনালাপটি প্রতিবেদকের হাতে এসে পৌঁছেছে। ফোনালাপে উপ-উপাচার্য জাকারিয়া মেয়েটিকে সাদিয়া নামে সম্বোধন করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাদিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী। তার স্বামী নুরুল হুদা একই বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। নুরুল হুদা ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে অনার্সে সিজিপিএ ৩.৬৫ ও মাস্টার্সে ৩.৬০ সিজিপিএ অর্জন করেন। আইন অনুষদে সেরা হওয়ায় ২০১৭ সালে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় স্বর্ণপদক এবং ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকও পান। নুরুল হুদা ওই বিভাগে শিক্ষক হিসেবে চাকুরি প্রত্যাশী ছিলেন। গত ২০১৮ সালের মার্চে ওই বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয় এবং নভেম্বরে ভাইভা অনুষ্ঠিত হয়।

ওই ভাইভা বোর্ডে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট ওই নিয়োগ ভাইভা বোর্ডে সভাপতি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান। এ ছাড়া সিনেট সদস্য রুস্তম আলী, আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল হান্নান, উপ-উপাচার্য চৌধুরী মো.জাকারিয়া এবং বিশেষজ্ঞ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক শাহাজান মণ্ডল।

ভাইভা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর তিনজনকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তারা হলেন উপ-উপাচার্য চৌধুরী মো. জাকারিয়ার মেয়ের স্বামী সাইমুন তুহিন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নুরুল ইসলাম ঠান্ডুর মেয়ে নূর নূসরাত সুলতানা এবং রাবির আইন বিভাগের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী বনশ্রী রানী। নূসরাত একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করেছে। নিয়োগপ্রাপ্ত এই তিনজনের চেয়ে বেশি সিজিপিএ থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ পাননি নুরুল হুদা।

ফোনালাপটি হুবহু তুলে ধরা হল-

উপ-উপাচার্য: ‘হ্যা সাদিয়া, আমি প্রফেসর জাকারিয়া, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর। ফোনের ওপাশ থেকে মেয়েটি বলেন, ‘আসসালামু আলাইকুম স্যার।’

উপ-উপাচার্য : ‘ওয়ালাইকুম আসসালাম, আচ্ছা মা, একটা কথা বলতো, আমার খুব শুনতে ইচ্ছা যে, এখানে তোমরা কত টাকা দেওয়ার জন্য রেডি আছো?’ মেয়ে: ‘স্যার সত্যি কথা বলতে’,,,।

উপ-উপাচার্য: ‘না না, সত্যি কথাই তো বলবা। উপরে আল্লাহ তায়ালা, নিচে আমি।’ মেয়ে: ‘অবশ্যই, অবশ্যই। স্যার, আপনি যেহেতু তার অবস্থা জানেন, আরেকটা বিষয় এখানে স্যার, সেটা হচ্ছে, আপনি হুদার… মানে, এমনিতে সে কতটা স্ট্রিক্ট…, আপনি বোধহয় এটাও জানেন স্যার, একটু রগচটা ছেলে।’

পরে উপ-উপাচার্য ‘আচ্ছা রাখো, এখান থেকে কথা বলা যাবে না’ বলে ফোন কেটে দেন।

এ বিষয়ে ওই বোর্ডে বিশেষজ্ঞ হিসেবে থাকা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শাহজাহান মণ্ডল। তিনি বলেন, ওই নিয়োগ ভাইভা অনুষ্ঠিত হওয়ার দুয়েকদিন আগ থেকে রাবির কয়েকজন শিক্ষক ওই নিয়োগে আর্থিক লেনদেন হতে পারে বলে সজাগ থাকতে বলেছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পাওয়ার পরও নুরুল হুদাকে কেন নিয়োগ দেওয়া হলো না প্রশ্ন করলে অনেকদিন আগের ঘটনা তাই তার কিছু মনে নেই বলে জানান তিনি।

এদিকে নুরুল হুদার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আপনারা সব জানেন। এ বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই।’ এ বিষয়ে উপ-উপাচার্যের মন্তব্য জানতে দুপুরে একাধিকবার মুঠোফোনে কল করলে তার নম্বরটি এখন ব্যস্ত আছে দেখায়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

সর্বশেষ খবর