মঙ্গল. জানু. ২২, ২০১৯

মিয়ানমারের কাজ জঘন্য- প্রধানমন্ত্রী

সীমান্তবাংলা ♦ সম্প্রতি মিয়ানমারের সেনাবাহিনী প্রকাশিত একটি বইয়ে ভুয়া ছবি প্রকাশ করে যেভাবে রোহিঙ্গাদের নিয়ে অপপ্রচার চালানো হয়েছে, তাকে ‘জঘন্য কাজ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নেপালে সদ্য সমাপ্ত বিমসটেক সম্মেলন নিয়ে রবিবার বিকাল চারটার দিকে গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে রোহিঙ্গা সঙ্কট প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমার যা করেছে অত্যন্ত জঘন্য কাজ করেছে। নিজেরাই নিজেদের সম্মানটা খারাপ করেছে। আন্তর্জাতিকভাবে নিজেরাই নিজেদের অবস্থান খারাপ করেছে। ৭১ সালের গণহত্যার ছবি সেইগুলো তারা ব্যবহার করতে গিয়ে আন্তর্জাতিক ভাবেই তারা তাদের অবস্থা খারাপ করেছে।’

‘আমি যদি বলি, ছবি নিয়ে তারা যে কাজটি করল, একটা বিষয় স্মরণ করিয়ে দিতে চাই- আমাদের দেশেও কিন্তু এই রকম ঘটনা ঘটেছিল অতীতে। একবার মক্কা শরীফের সামনে মানববন্ধনের ছবি বানানো থেকে শুরু করে এমন কোনও ছবি নেই যে করা হয়নি।’

মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা সঙ্কটের ‘আসল সত্য’ প্রকাশের ঘোষণা দিয়ে গত জুলাই মাসে একটি বই প্রকাশ করে, যা সম্পতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম তুলে ধরে। যেখানে মিয়ানমার সেনাবাহিনী তিনটি ভুয়া ছবি ব্যবহার করে রোহিঙ্গাদের নিয়ে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে।

এর মধ্যে ১৯৭১ সালে ঢাকায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হত্যাযজ্ঞের পর দুই বাংলাদেশির লাশ উদ্ধারের একটি ছবি ব্যবহার করে সেনাবাহিনীর বইয়ে ক্যাপশনে বলা হয়েছে- সেটা রাখাইনে রোহিঙ্গাদের হাতে নিহত স্থানীয় বৌদ্ধদের ছবি। এছাড়া রুয়ান্ডার উদ্বাস্তদের একটি ছবি দিয়ে ক্যাপশনে বলা হয়েছে, দলে দলে বাঙালিরা রাখাইনে প্রবেশ করছে।

মিয়ানমার বিএনপি জামায়াতের কাছে শিখে নিল নাকি? 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন প্রশ্নটা হল তারা (মিয়ানমার) এই জিনিসটা শিখল কিভাবে? বিএনপি জামায়াতের কাছ থেকে শিখে নিল নাকি?- সেটায় আমার প্রশ্ন। ছবি নিয়ে তেলেসমাতি কারবার, তার ভুক্তভোগি তো আমরা বাংলাদেশিরা। হাইতি বা পাকিস্থানের বিভিন্ন বিষয়ের ছবি নিয়ে তারা ২০১৪ ও ২০১৫ সালে বিভিন্ন অপপ্রচার চালিয়েছিল।’

জামাত বিএনপি মিলেই এসব করেছিল মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ফেসবুকে মাঝে মাঝে এগুলোর ছবি নিয়ে কারবার দেখা যায়।’

‘মিয়ানমার বলে কিন্তু করে না’

‘বিমসটেকে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট এসেছিলেন তার সাথে একটা পর্যায় আমার আলোচনা হয়। তখন তিনি স্বীকার করেন- আমাদের সাথে সমঝোতা স্বাক্ষর হয়েছে এবং সেই স্বাক্ষর অনুযায়ী ইতিমধ্যেই প্রায় তিন হাজারের তালিকা দেওয়া হয়েছে। এখানে যারা ফিরে যেতে চায় তারা ফিরিয়ে নিয়ে যেতে প্রস্তুত। এই (রোহিঙ্গা) বিষয় নিয়ে এই টুকু আলোচনা আমাদের হয়েছে।’

অপর এক প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার আমাদের প্রতিবেশি দেশ। তাদের সাথে আমরা সংঘাতপূর্ণ সম্পর্ক হোক চাই না। এগারো লাখ রোহিঙ্গা আমাদের দেশে আছে। তাদের সব রকম সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা আমরা করেছি। জাতিসংঘ আমাদের অনেক রকম সহায়তা করেছে এই জন্য তাদের কে ধন্যবাদ জানায়।’

‘আমরা তাদের (মিয়ানমার) সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি। তাদের সঙ্গে যখনই যোগাযোগ করা হয়- তারা বলে, এই তো আমরা নিয়ে যাবো। তারা বলে, কিন্তু বাস্তবে করে না। করতে গেলেই একটা কিছু একটা বাঁধা আসে।’

বাংলাদেশের বিরামহীন চেষ্টা ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রোহিঙ্গাদের দেশে ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমার ২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সই করে।

এতে পরবর্তী দুই মাসের মধ্যে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে—এমন আশাবাদও দেখায় মিয়ানমার। তবে সে চুক্তির বছর পূর্তির সময় হয়ে এলেও রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।

এরইমধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমার ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর মধ্যে অনেকটা গোপনেই আরেকটা সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়। চলতি বছরের রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকে ‘স্বেচ্ছা, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই’করার মতো পরিবেশ তৈরি করার জন্য এই সমঝোতা করা হয় জাতিসংঘ ও মিয়ানমার দাবি করে। তবে এরপরও আলোর মুখ দেখেনি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে আরসা নামের একটি কথিত সংগঠনের হামলার ধুয়ো তুলে মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর পূর্বপরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী।

নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ, দমন-পীড়ন থেকে বাঁচতে আট লাখের বেশি আশ্রয় নেয় পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশের কক্সবাজারের সীমান্ত এলাকার বেশ কয়েকটি স্থায়ী-অস্থায়ী ক্যাম্পে।

ঢাকাটাইমস ০২সেপ্টেম্বর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.