বৃহস্পতি. নভে. ১৫, ২০১৮

মর্যাদার সাথে রোহিঙ্গাদের ধাপে ধাপে ফেরত নেওয়া হবে- মিন্ট থোয়ে 

রফিক উদ্দিন বাবুল,উখিয়া ♦ নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে রোহিঙ্গাদের নিরাপদে এবং মর্যদার সঙ্গে ফেরত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থোয়ে। বুধবার দুপুর ১ টার দিকে কুতুপালং ডি ৫ ব্লক কক্সবাজার জেলা প্রশাসক নির্মিত সমন্বয় ক্যাম্পে ফ্রেস ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি আরো বলেন, রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার জন্য মিয়ানমার সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহন করেছেন। বাংলাদেশের দেওয়া তালিকা থেকে যাছাই বাছাই করে ৮ হাজার ৩০ জন রোহিঙ্গাকে সনাক্ত করা হয়েছে।
যাচাই বাছাইকৃত ৮হাজার ৩০জনের মধ্যে নভেম্বরে প্রথম ধাপে  ২ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নেওয়া হবে। ২য় ধাপে আরো ৫ হাজার রোহিঙ্গা ফেরত নেবে মিয়ানমার। এভাবে ৩০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নিয়ে তাদের রাখার জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফেরত যাওয়া রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পে ৫ মাস থাকতে হবে। সেখানে তাদের ফরম পূরন করে এন ডিসি কার্ড দেওয়া হবে। ক্যাম্পে ৫ মাস থাকার পর রোহিঙ্গারা স্বস্ব বাড়ী ঘরে ফিরে যেতে পারবে।
সেখানে রোহিঙ্গারা নিরাপত্তা, চিকিৎসা খাওয়া দাওয়াসহ সব ধরনের সুযোগ সুবিধা পাবে। রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য প্রাইমারী শিক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। রোহিঙ্গা যুবকেরা যাতে চাকুরী করতে পারে সেজন্য বলি বাজার এলাকায় একটি কারখানা স্থাপন করা হয়েছে বলে মিন্ট থোয়ে জানান। জবাবে রোহিঙ্গা প্রতিনিধি দলের সদস্য লম্বাশিয়া ক্যাম্পের মুহিবুল্লাহ মাঝি, উনছি প্রাংয়ের আমান উল্লাহ মাঝি ও মিয়ানমার সেনা কর্তৃক ধর্ষিতা জামালিকাসহ ৭ সদস্যের প্রতিনিধি দল মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিন্ট থোয়েকে বার্মিজ ভাষায় জানান, তাদেরকে ফিরিয়ে নেওয়ার আগে মিয়ানমারের নাগরিকত্ব দিয়ে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
আখিয়াব কারাগারে যে সমস্ত রোহিঙ্গা যুবকদের বিনা কারনে বন্ধি করে রাখা হয়েছে তাদেরকে ছেড়ে দিতে হবে। রোহিঙ্গাদের যে নাগরিকত্ব দিয়ে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে মিয়ানমারকে বিষয়টি আর্ন্তজাতিক বিশ^কে জানাতে হবে। ফেরত যাওয়া রোহিঙ্গাদের আবারো যাতে জুলুম নির্যাতন, উৎপীড়ন নিপীড়ন না করতে পারে সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে হবে। রোহিঙ্গা ছেলে মেয়েদের লেখা পড়া করার সুযোগ দিতে হবে। ফেরত যাওয়া রোহিঙ্গারা ক্যাম্পে থাকবে না।
তারা যেন সরাসরি নিজ বাড়ীতে ফিরে যেতে পারে সে ব্যবস্থা করতে হবে। সর্বশেষ রোহিঙ্গা প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কক্সবাজার শরণার্থী ত্রান ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোঃ আবুল কালাম জানান, দ্বিতীয় দফায় ২৪ হাজার ২৪২জন রোহিঙ্গাদের একটি তালিকা মিয়ানমারকে হস্তান্তর করা হয়েছে। মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিন্ট থোয়ের নেতৃত্বাধীন ১৬ সদস্যর একটি প্রতিনিধি দল ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক, চট্রগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মোঃ আব্দুল মন্নান, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন, জেলা পুলিশ সুপার এবি এম মাসুদ হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরীসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা, এনজিও সংস্থার প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.