শুক্র. আগস্ট ২৩, ২০১৯

ভবিষ্যত পৃথিবীর জন্য প্রস্তুতির ক্ষেত্র কক্সবাজারে

কক্সবাজারের নতুন প্রজন্মের মধ্যে জ্ঞান চর্চার বিশাল ঘাটতি লক্ষ করছি। অনেকেই একাডেমিক ডিগ্রি অর্জন করছেন, কিন্তু বিষয়ভিত্তিক তেমন জ্ঞান অর্জন করছেন না। শর্টকাটে টাকা আয়ের পথ খুঁজছেন। অনেকেই কেবল সার্টিফিকেটটাই অর্জন করছেন; পড়ালেখায়ও খুব ঘাটতি। গণগ্রন্থাগার ফাঁকা থাকে, কক্সবাজারের বই মেলাও ছিল ফাঁকা, তরুণদের টেবিলেও তেমন কোন বই নেই। বইয়ের কথা বাদই দিলাম; দক্ষতা অর্জনের ক্ষেত্রেও বেশ কমতি। ফেইসবুকটাই যেন নতুন প্রজন্মের সব। কী শিখে ফেইসবুক থেকে? যেখানে ৮০ শতাংশই মিথ্যা ঘুরছে!

যে জেনারেশন গ্যাপ দেখা দিয়েছে– কক্সবাজার থেকে ভবিষ্যতে আর কোন মোহাম্মদ শফিউল আলম, সলিমুল্লাহ খান কিংবা নুরুল হুদার মতো মানুষ তৈরি হবে কিনা আমার যথেষ্ট সন্দেহ।
কিন্তু সবাই টাকার মালিক হবেন; অনেকটা ইয়াবা ব্যবসায়ীদের মতোই।
এ মুহুর্তে উন্নয়ন সংস্থাসমূহ ও সরকারের উচিত হবে কক্সবাজারে ব্যাপকহারে শিক্ষার সুযোগ তৈরি করা। বিশেষ করে যারা এইচএসসি, স্নাতক কিংবা সম্মান ডিগ্রি সম্পন্ন করে জব মার্কেটে প্রবেশ করেছেন, তাদের জন্য বিশ্বমানের পেশাদার প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করা। কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা। অনেকগুলো কারণেই কক্সবাজার বিশ্বের যেকোন স্থানের চেয়েও ভিন্নতর অবস্থানে রয়েছে। সেগুলোকে কাজে লাগিয়ে বিষয় ভিত্তিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করে জেনারেশন গ্যাপটি লিংকড করা।

থাইল্যান্ডের গুহায় আটকাপড়া ১৩ জন কিশোর ফুটবলারকে উদ্ধার করতে ছুটে গিয়েছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে দক্ষ পেশাদার উদ্ধারকারীরা। ব্রিটেন ও অস্ট্রেলিয়া সহ অনেকগুলো দেশের উদ্ধারকারী ও বিশেষজ্ঞরা তখন সংকটটিতে সাড়া দিয়েছিলেন এবং সফলতার সাথে উদ্ধার অভিযান সম্পন্ন করেন। বিষয়টি আমাকে দারুনভাবে নাড়া দিয়েছিল। তখন আমারও ইচ্ছা জাগে আমিও বিশ্বের যেকোন বড় সংকটে যেন সাড়া দিতে নিজেকে প্রস্তুত করতে পারি। এখনও সেই ইচ্ছা আমার প্রবল। এবং কক্সবাজারে এখন সেই ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।
এটাকেই আমি বলি দক্ষতা। কক্সবাজারে সেরকম বিশ্বমানের দক্ষ পেশাদার সৃষ্টি হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এখানে দক্ষ পেশাদার সৃষ্টি হওয়ার মতো যথেষ্ট পরিবেশ বিদ্যমান। এটাকে অবশ্যই কাজে লাগানো উচিত। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে শিক্ষামুখী করতে সচেতনতা বাড়ানো উচিত।
এরপরও আপনারা যারা টাকার পেছনে ছুটছেন; অন্ধের মতো ছুটতে থাকেন। আপনাদের জন্য কেবল দুঃখ করা ছাড়া আমার আর কিছুই নেই। আর যারা নিজের পেছনে ছুটছেন; স্বাগতম।

বৃষ্টি বাদল মাথায় নিয়ে, কাদা পথ মাড়িয়ে আমার অবিরাম ছুটে চলা কেবলই দক্ষ পেশাদার হওয়ার জন্য। আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি- বিশ্বমানের একজন দক্ষ পেশাদার হিসেবে গড়ে তোলার মতো ক্ষেত্র কক্সবাজারে রয়েছে। আমি সেটিকে কাজে লাগাতে চাই। বিশ্বের যেকোন প্রান্তে কিংবা ভিন্ন কোন গ্রহে মানবিক সংকটে সাড়া দিতে আমি নিজেকে প্রস্তুত করতে চাই।
সরকার, আন্তর্জাতিক সংস্থা কিংবা স্থানীয় কোন উন্নয়ন সংস্থা আমাকে কী সুযোগ দিল– সেদিকে চেয়ে না থেকে আমি নিজেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
আসুন, বোকার মতো টাকার পেছনে না ছুটে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আগামীর পৃথিবীর জন্য কিংবা মহাবিশ্বের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করি।
লেখকঃ মোয়াজ্জেম হোসাইন সাকিল একজন সাংবাদিক ও তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

সর্বশেষ খবর