বালুখালীর শীর্ষ ইয়াবার কারবারী এজাহারভুক্ত পলাতক আসামী মুহিন গং ধরাছোঁয়ার বাইরে

SIMANTO SIMANTO

BANGLA

প্রকাশিত: জুলাই ২, ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক ;

সিন্ডিকেট তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিলো মোঃ মুহিনসহ তার একটি দল।
তথ্য সুত্রে জানা যায় মোঃ মুহিনকে এলাকার ছোট, বড়, অনেকের কাছে ইয়াবা মুহিন নামেই নাকি বেশি পরিচিত লাভ করেছে।

জানা যায়, মুহিন উখিয়া উপজেলার বালুখালীর পূর্ব পাড়া এলাকার জাফর আলম প্রকাশ গুরা মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ মুহিন (২৮)। সে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে গোপনে ইয়াবা ব্যবসা চালিয়েছে যাচ্ছিলো! কিন্তু সে ব্যবসাকে দিন দিন বড় করার জন্য একটি সিন্ডিকেট তৈরি করে। এবং প্লান মত পুরোদমে সক্রিয় ভাবে ইয়াবা বানিজ্য করে আসছিলো।

গত ৩১মে (মঙ্গলবার)-২০২২ইং সকাল আনুমানিক ৮:১৫ঘটিকার সময় বালুখালীর বিওপির নায়েক (৭১৫৯৩) মোঃ আল আমিনের সিভিল সোর্সের গোপন সংবাদের ভিক্তিতে জানতে পারে যে, বালুখালীর বালুর মাট ব্রীজের দক্ষিণ পাশে ফাঁকা রাস্তার উপরে যাহার জিআর নং- ২৪০৪২৭, মানচিত্র নং-৮৪/সি/৪ এ আসিয়া ১টি সিএনজি গাড়ী দেখিতে পাইয়া থামাতে বল্লে সিএনজি গাড়ীর গতি কমাইলে সবাই সিএনজি থেকে নামিয়ে দৌঁড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করিলে আমি ও সঙ্গীয় বিজিবি সদস্যগনসহ তাদের পিছু নিয়া ১জন ব্যক্তিকে তাহার ডানে থাকা ১টি চটের ব্যাগসহ আটক করিলে অন্যান্যরা দৌঁড়াইয়া পালাইয়া যায়। আটককৃত ব্যক্তিকে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা কারণ এবং তাহার হাতে থাকা ১টি চটের ব্যাগ তল্লাশী করিতে থাকি।

তল্লাশীর এক পর্যায়ে ধৃত আসামি নিজেই স্বীকার করে যে, তাহার হাতে থাকা ১টি চটের ব্যাগে বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট রহিয়াছে। তৎসময় উপস্থিত সাক্ষীদের সম্মুখে পালংখালী ইউপির বালুখালীর আজিজুল হকের পুত্র নুরুল আমিন (৩১)কে ৩০হাজার পিস ইয়াবাসহ উক্ত বিজিবির নায়েক মোঃ আল আমিনের সঙ্গীয় ফোর্স গ্রেফতার করে বলে জানান। আরো বলেন ধৃত আসামীকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে শিকার করেন যে, পালিয়ে যাওয়া ব্যাক্তিরাসহ কেউ সন্দেহ না করার জন্য যোগসাজশে বিক্রির জন্য কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে নিয়ে চাচ্ছিলো বলে জানান।

পালিয়ে যাওয়া ব্যাক্তিরা হলেন বালুখালীর পূর্ব পাড়া জাফরের ছেলে মোঃ মুহিন (২৮) ও বালুখালীর পূর্ব ফাড়ির বিল এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলর সুলতান আহমদ (৩৮), আলী আহমদ এর পুত্র মোঃ দেলোয়ার হোসেনের (৪৫), আবদু শুক্কুরের পুত্র মোঃ মিজানুর রহমান সোহেল (২৫), মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেনের পুত্র সালমান ফারসি বিন দেলোয়ার (২০) এবং উখিয়ার চাকবৈঠার কচুবনিয়া এলাকার আলী আহমেদ এর পুত্র মোঃ কামাল হোসেন (৩৫) এদের নাম টিকানা প্রকাশ করে।

পরে বিজিবি সংশ্লিষ্ট ধারায় নিয়মিত মামলা রুজু করার নিমিত্তে উখিয়া থানায় হস্তান্তর করে, যার জি.আর মামলা নং- ৭২৬/২০২২ইং বলে নিশ্চিত করেছেন বিজিবির উক্ত কর্মকর্তা।

উক্ত মামলায় পলাতক হওয়ার সত্বেও মুহিন তার সমস্ত ইয়াবা ব্যবসা বেহাল তবিয়তে পরিচালনা করে আসিতেছে। কিন্তু এখন মোঃ মুহিন গং নতুন চিন্তা ভাবনায় ব্যস্ত হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে! কিভাবে মামলার তদন্তকারীকে মোটা অংকের টাকা ব্যবহার করে মামলার চার্জশিট থেকে বাঁচতে পারবে? তার জন্য এলাকার চৌকিদার জুনুকে ব্যবহার করে সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যস্ত হয়েছে।

আসলেই কি গ্রাম পুলিশ জুনুকে দিয়ে অর্থের বিনিময়ে তার এমন অসৎ আসা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন হবে? জনগণের কাছে এমন বিভিন্ন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। এবং অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা মনে করছেন তার এমন চিন্তা চেতনা কতটুকু সফল হবে তা নির্ভর করছে মামলার তদন্তকারী অফিসারের উপরে।

মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি হওয়ার পরেও মুহিন কি করে স্থানীয় চৌকিদার জুনুর সাথে হাত মিলিয়ে চলে! এই নিয়ে এলাকায় চলছে কানাঘুষা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যাক্তি বলেন প্রতি মাসে মোটা অংকের টাকা ও ব্যবসায়ীক লেনদেনে চৌকিদার বিভিন্ন কৌশল অবলম্বনের মধ্যে দিয়ে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের বটবৃক্ষ হিসেবে কাজ করছে।

তথ্য সুত্রে জানা যায়, চৌকিদার বিভিন্ন কৌশল অবলম্বনের মধ্যে দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু চৌকিদার- ২০২০সালে প্রশাসনের জ্বালে গ্রেফতার হয়ে প্রায় দেড় বছর মত কারা ভোগ করে। চৌকিদার মামলায় জামিনে বের হওয়ার পর বালুখালী এলাকাকে আবারও দাপটে ইয়াবা স্বর্গরাজ্য পরিণত করেছে, দুঃখের বিষয় চৌকিদার জুনু জেল থেকে আসার পরও তার চাকরি ফিরে পাই চৌকিদারিকে পুঁজি করে একমাত্র সে এই ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।