শুক্র. ডিসে. ১৪, ২০১৮

বহু অপকর্মের হোতা রোহিঙ্গা আমিন গা ঢাকা দিয়েছে! আইনের আওতায় আনা জরুরী

শাকুর মাহমুদ চৌধুরী উখিয়া ♦ মায়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেই অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে রোহিঙ্গাদের চালাক চতুর লোকজন। তার মধ্যে রোহিঙ্গা আমিন প্রকাশ মাতামিন প্রকাশ সোহেল আমিন অন্যতম। এই রোহিঙ্গা নাগরিক বাংলাদেশে কুতুপালং ক্যাম্পের রেজিস্ট্রার্ড রোহিঙ্গা হিসেবে নিবন্ধিত হলেও ঘুরে বেড়ান বাংলাদেশের আনাচে কানাচে এবং দেশের বাইরেও। কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, ঢাকা এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে তার বিচরণ নেই। বাংলাদেশী পরিচয় দিয়ে দেশ ও দেশের বাহিরে সে বিভিন্ন অপকর্ম করে দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে।

তার বিরুদ্ধে- আদম পাচার, ইয়াবা ব্যবসা, রোহিঙ্গা নারী পাচার, স্থানীয় নারীদের ধর্ষণ এবং যৌন হয়রানিসহ রয়েছে আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ। তার চাতুর্যতার কারণে সে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়িয়ে দিনে দিনে এসব অপকর্ম করে বীরদর্পে দেশ ও বিদেশে ঘুরে বেড়াচ্ছে এমন অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
সূত্রে জানা যায়, এমদাদুল্লাহ নামে এক রোহিঙ্গার নিকট প্রতারক রোহিঙ্গা আমিন গত ১৫ জানুয়ারী ২০১৭ তারিখে প্রায় ৪লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে গা ঢাকা দেয়। এরপরে আমিন বিভিন্ন সময়ে পাওনাদারের টাকা ফেরত দিয়ে দিবে এমন ওয়াদা বদ্ধ হলেও অজ্ঞাত প্রভাবশালীদের ইশারায় অদ্যবদি সেই টাকা ফেরত দেয়নি সোহেল আমিন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আমিন এক রোহিঙ্গা নারীকে ভাগিয়ে নিয়ে এখন ঢাকায় অবস্থান করছে।

উক্ত নারী ৩ সন্তানের জননী হওয়া সত্তে¡ও আমিনের যৌন লালসা থেকে রেহাই পায়নি। মা হারিয়ে সন্তানরা এখন মানবেতর জীবন যাপন করছে। সন্তানগুলো এখন এ বøকে তাদের নানীর সাথে রয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও আমিন বাংলাদেশী কোনো সীম ব্যবহার করেন না। কিন্তু বাংলাদেশে বসেই ব্যবহার করে সৌদী সীম। আন্তর্জাতিক রোমিং করা একটি সীম নাম্বার প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে। উক্ত নাম্বারে কল দিয়ে এসব বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সে নিজেকে সৌদীতে অবস্থান করছে বলে দাবী করে।

এর আগে গত বছর দশেক পূর্বে উখিয়ার স্থানীয় কোর্টবাজারের একটি মেয়েকে ধর্ষণ করে। এঘটনায় আমিন ধরা পড়লেও কোনো শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়নি তাকে। উক্ত ধর্ষণ কান্ডে মহিলাটির গর্বে একটি সন্তানও আসে। বিচার শালিসের মাধ্যমে সন্তানটি এখন আমিনের মা এর কাছে রয়েছে বলে জানা যায়। এরপরে মেয়েটি শত চেষ্টা করেও আমিনের সাথে সংসার পাততে পারেনি।

দুর্ধর্ষ রোহিঙ্গা আমিনের ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সে এখন বাংলাদেশী পরিচয় দিয়ে ঢাকায় এক রোহিঙ্গা নারীকে নিয়ে অবস্থান করছে। তবে সম্প্রতি খুব জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে কীভাবে বাংলাদেশ ছেড়ে সৌদিতে পালানো যায়। এক্ষেত্রে অবাক করা ব্যাপার হলো, সে বাংলাদেশী পাসপোর্টও সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে। যার নাম্বার- ০৭৫১৫৮৪। এদিকে ক্যাম্পে তার এম.আর.সি নাম্বার হলো- ১৭০০০৯৫৫। সে কুতুপালং রেজিস্ট্রার্ড ক্যাম্পের এ বøকের ৩৩(২) শেডে তার মাকে ও ভাইবোনকে রেখেছে বলে জানা গেছে। যদিও উক্ত ঠিকানায় তাকে পাওয়া যাওয়ার কথা কিন্তু আমিন এতটাই দুর্ধর্ষ চতুরতা প্রদর্শন করে যাচ্ছে যে, সে কখনওই উল্লেখিত শেডে অবস্থান করে না।

এভাবেই ক্যাম্পের পরিবেশ ক্রমাবনতির দিকে ধাবিত করছে কতিপয় রোহিঙ্গারা জানালেন, স্থানীয় সচেতন মহলও। এদের যদি এভাবে ছাড় দেওয়া হয় তাহলে আগামীতে বড় ধরণের  নাশকতায় এরা লিপ্ত হতে পারে।
এব্যাপারে জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয় ক্যাম্প ইনচার্জ রেজাউল করিমের সাথে। কিন্তু উপর্যুপরি চেষ্টা করার পরও তিনি ফোন গ্রহণ করতে ব্যার্থ হওয়ায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.