শনিবার, ২২ Jun ২০২৪, ০৩:২৪ অপরাহ্ন

শিরোনামঃ
সেন্টমা‌র্টিন দ্বীপ নি‌য়ে বাকযুদ্ধ – মেজর না‌সিরু‌দ্দিন(অব) পিএইচ‌ডি রা‌সেল ভাইপার সা‌পের কাম‌ড়ে আক্রান্ত কৃষক এখ‌নো সুস্থ  রাসেলস ভাইপার নিয়ে আতঙ্ক না ছড়িয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের এক ছাগল কিনেই বেরিয়ে এলো মতিউর-লাকী দম্পতির থলের বেড়াল ভারতকে হারিয়ে সেমিফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখতে মরিয়া টাইগাররা প্রধানমন্ত্রী দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে নয়াদিল্লী পৌঁছেছেন মোটরবাইক ও ইজিবাইকের কার‌ণে সা‌দে‌শে সড়ক দুর্ঘটনা বাড়‌ছে- সেতুমন্ত্রী ওবাইদুল কা‌দের  ওমা‌নে খুল‌ছে বাংলা‌দে‌শের তৃতীয় বৃহত্তম শ্রমবাজার এলাকাজুড়ে আতঙ্ক, মানিকগঞ্জে লোকালয়ে ঢুকেছে রাসেল ভাইপার উত্তর পুর্বাঞ্চলীয় রা‌জ্যের স‌ঙ্গে অন‌্যান‌্য রাজ‌্যগু‌লোকে সংযুক্ত কর‌তে বাংলা‌দে‌শের উপর‌দি‌য়ে বিকল্প রেলপথ তৈ‌রি কর‌তে যা‌চ্ছে ভারত সরকার 
নতুন বছরে উন্নয়ন অব্যাহত রাখা এবং সেগুলো বাস্তবায়ন করাই সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ!!

নতুন বছরে উন্নয়ন অব্যাহত রাখা এবং সেগুলো বাস্তবায়ন করাই সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ!!

 

এম আর আয়াজ রবি।

দেখতে দেখতে আরও একটি বছর, কালের স্রোতে মহাকালের অতল গহবরে হারিয়ে গেছে চিরদিনের জন্য। এ যেন ব্ল্যাকহোলে হারিয়ে যাওয়া গ্রহ, গ্রহানুপুঞ্জ, নক্ষত্র, উল্কা, নীহারিকা, ধুমকেতু আচমকা চলতে চলতে নিজের অজান্তে ব্ল্যাকহোলের মুখে পতিত হলে নিমিষেই (ব্ল্যাকহোল গর্ভে) হজম হয়ে যাবার মত প্রায়! কিন্তু কালের গর্ভে হারিয়ে গেলেই কি এত সহজে কোন একটা আলোচিত, সমালোচিত বছর সত্যি সত্যিই কালের গর্ভে হারিয়ে যেতে পারে?? তাই বৈশ্বিক মহামারী বা অতিমারী কোভিড-১৯ এ-র যৌবনের বছর ২০২০ সালের রেশ বা লাগাম আর ও কত বছর টানতে হবে সেটা মহান আল্লাহ তায়ালা খুব ভাল জানেন বা সামনের দিনে ‘সময়ই’ ঠিক বলে দেবে, বৈকি!

নতুন বছরের পূর্ব আকাশে লাল সূর্য মামা উদিত হয়েছে দু’দিন হল আজ। তাই নতুন বছরের নতুন ক্ষণ, নতুন সেকেন্ড, নতুন মিনিট, নতুন ঘণ্টা বা নতুন দিন অতিবাহিত হয়ে আজ দ্বিতীয় দিন। মহাকালের চিরন্তন গতি প্রবাহে বিগত হয়ে গেল আরো একটি আশা, প্রত্যাশা, অর্জন, নিঃঅর্জনের বছর, আর্শীবাদ-অভিশাপের বছর, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির বছর, আশা-হতাশার মোড়কে আবদ্ধ বিশ্ব মানবতার তটস্থ থাকার বছর, ভয়ে মানুষ মুখে লাগাম টানার বছর, স্যানিটাইজারের মাধ্যমে বা সাবান দিয়ে হাত মুছতে মুছতে ভাগ্য রেখা মুছে ফেলার বছর! বা সামাজিক জীবকে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে অসামাজিক বানানোর বছর, ছেলে-সন্তান মাকে, বাবা ছেলেকে, পরিবারের সবাই কর্মজীবি বাবাকে বাড়িতে প্রবেশ করতে না দেবার বছর। মৃত মা,বাবা, ছেলে-মেয়ে, আত্মীয় স্বজনকে বাড়িতে রেখে ভয়ে পালাবার বছর বা জানাজায় অংশ গ্রহন না করার বছর। এরুপ কত ঘটনা বা দূর্ঘটনার ইতিহাসে জর্জরিত বছর গত হল তা বলাই বাহুল্য!

নতুন বছরে শুরু হওয়া জীবন যুদ্ধ শুধু বেঁচে থাকার জন্য আজ বিশ্ব মানবতা অকাতরে কাতরাচ্ছে! নতুনের প্রতি মানুষের আগ্রহ চিরন্তন, থাকে চরম উদ্দীপনাও। আর নতুনের মধ্যেই তো নিহিত থাকে অমিত সম্ভাবনার দ্বার। আর সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রুপলাভ করার সুযোগ করে দেবে নতুন বছর, নতুন আংগিকে সেটাই মানুষের প্রত্যাশা। আজকে কোভিড-১৯ এ-র টীকা বা ভ্যাক্সিনের জন্য বিশ্ব চরাচরে হাহাকার বিরাজমান। আশা এবং প্রত্যাশা করছি নতুন বছরে করোনা অতিমারীকে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা জয় করতে সক্ষম হবেন এবং নিঃসন্দেহে মানুষ মুক্ত বিহংগের মতো আবারো মুক্ত হবে নতুন বছরে!

তবে সম্ভাবনার আলোতে আলোকিত বাংলাদেশে রয়েছে অনেক চ্যালেঞ্জ। কোভিড-১৯ মোকাবেলা সারা বিশ্বের চ্যালেঞ্জ হলেও, বাংলাদেশও কোন অংশে এ চ্যালেঞ্জ এড়াতে পারেনা বা পারবেও না। তাই কোভিড-১৯ মোকাবেলা করাটাই আজকের দিনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে আমি মনে করি। বিশ্ব অর্থনীতির বিরুপ প্রভাব বাংলাদেশে পড়েছে। বাংলাদেশের বৈদেশিক আয়ের সিংহভাগ অর্জনকারী খাতগুলোর মধ্যে গার্মেন্টস শিল্প, বৈদেশিক রেমিটেন্স প্রবাহ অন্যতম। কিন্তু গেল বছর এ দুটো খাতই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে। কারন করোনাকালে সারা দেশে শত শত গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী বন্ধ হয়ে গেছে, লক্ষ লক্ষ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে বা ছদ্মবেকার অবস্থায় পতিত হয়েছে।বিদেশে কর্মরত শ্রমিকরাও কর্মহীন হয়ে পড়েছে, যা দেশের এমার্তসামাজিক অবিস্থায় মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। তাই গার্মেন্টস শিল্পের উন্নয়ন ও রেমিটেন্দ প্রবাহ বাড়ানোর উদ্দোগ গ্রহনই নতুন বছরে সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে আমি মনে করি।

তাছাড়া রয়েছে-স্থানীয় পর্যায়ের ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্প স্থাপন ও শ্রম বাজার সৃষ্টি, অর্জন ও ধরে রাখা, প্রতিবেশি রাষ্ট্রের সাথে মর্যাদাপূর্ণ সম্পর্ক অর্জন ও ধরে রাখা। ‘ব্যালেন্স অব ফরেন ট্রেড’ অর্জন, রোহিংগা সমাস্যার দ্রুত সন্তোষজনক সমাধান, দূর্নীতির লাগাম টেনে ধরা, মাদক বা ইয়াবামুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্টা, বেকার সমাস্যার সমাধান, অর্থনৈতিক চাকা ঘুর্ণায়মান রাখা, করোনাকালে শিক্ষা ব্যবস্থার যে স্থবিরতা বিদ্যমান তার জট দ্রুত খুলে দেওয়া, দ্রব্যমূল্যের অব্যাহত উর্ধ্বমুখীতায় লাগাম টানা, খাদ্যে স্বয়ংসম্পুর্ণতা অর্জন, কৃষি অবকাঠামোর উন্নয়ন, জলবায়ুর উষ্ণতা বৃদ্ধির কারনগলো অনুসন্ধান ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন, পরিবেশ বিপর্যয় রোধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ, শিল্পবিকাশে সরকারী বেসরকারী উদ্দোক্তা শ্রেণি সৃস্টি করা, মানুষের বাক স্বাধীনতা সমুন্নত রাখা, সত্যিকার অর্থে দেশকে গণতন্ত্রায়ন রাখা, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের মুল নীতিগুলোর সঠিক চর্চা, লালন ও বাস্তবায়ন, বাংলাদেশের মৌলিক তিনটি বিভাগ যথাঃ বিচার বিভাগ, আইন বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের মধ্যে যথাযথ সুসম্পর্ক গড়ে তোলা, বজায়রাখা ও ধরে রাখা, মানবাধিকার প্রশ্নে সরকার কর্তৃক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা, দেশে প্রচলিত গুম, খুন, বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের লাগাম টানা, জাতীয় সংঘ প্রদত্ত টেকসই উন্নয়নের সূচক সমুহের উন্নয়ন অব্যাহত রাখাসহ আরও কত বড় বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকার ও দেশবাসীকে এগিয়ে আসতে হবে, তার কোন ইয়াত্তা নেই।

লেখকঃ কলামিষ্ট ও সম্পাদক-আইকন নিউজ টুডে ডট কম / সিনিয়র রিপোর্টার সীমান্তবাংলা।
সভাপতি-মফাস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) উখিয়া উপজেলা শাখা।

( সীমান্তবাংলা/ শা ম/ ২ জানুয়ারী ২০২১)

 

পোষ্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© কপিরাইট ২০১০ - ২০২৪ সীমান্ত বাংলা >> এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ

Design & Developed by Ecare Solutions