মঙ্গল. অক্টো. ২২, ২০১৯

‘দেশে ১২% সংখ্যালঘু, অথচ সরকারি চাকরিতে ২৫%’

সীমান্ত ডেস্ক> বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেত্রী প্রিয়া সাহা মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে যে ‘নালিশ’ দিয়েছেন তার প্রতিবাদ জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে এ মোমেন। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশে সরকারি কর্মচারীর ২৫% হচ্ছে ধর্মীয়ভাবে সংখ্যালঘু। যদিও মোট জনসংখ্যার ১২% হলেন সংখ্যালঘু।’

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পম্পেওর উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী ‘ধর্মীয় স্বাধীনতায় অগ্রগতি’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একথা বলেন।

ড. এ কে এ মোমেন বলেন, ‘প্রিয়া সাহা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে যে অভিযোগ করেছেন তা একেবারেই মিথ্যা এবং বিশেষ মতলবে এমন উদ্ভট কথা বলেছেন। আমি এমন আচরণের নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূত তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশের প্রকৃত পরিস্থিতির আলোকপাত করেছেন। তাই প্রিয়া সাহার বক্তব্য যে অন্তঃসারশূন্য এবং বিশেষ উদ্দেশ্যে এমন জঘন্য মিথ্যাচার করেছেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এ ধরনের অভিযোগে প্রকারান্তরে শান্তিপূর্ণ সমাজে বিশৃঙ্খলা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ তা কখনো হতে দেবে না। আশা করছি প্রিয়া সাহার বোধোদয় ঘটবে।’

উল্লেখ্য, সম্প্রতি চীন, তুরস্ক, সিরিয়া, ইরান, ইরাক, পাকিস্তান, উত্তর কোরিয়া, মিয়ানমারসহ ১৬টি দেশে সাম্প্রদায়িক নিপীড়নের শিকার হওয়া মানুষদের কয়েকজনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল হোয়াইট হাউসে। গত ১৬ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করেন তারা।

ট্রাম্প যখন একে একে সবার বক্তব্য শুনছিলেন তখন প্রিয়া সাহা নিজেকে বাংলাদেশি পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘স্যার, আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। সেখানকার ৩ কোটি ৭০ লাখ সংখ্যালঘু হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ‘নাই’ হয়ে গেছে। দয়া করে বাংলাদেশি জনগণকে সাহায্য করুন। আমরা আমাদের দেশে থাকতে চাই।’

ট্রাম্প তখন বলেন, ‘বাংলাদেশ?’ জবাবে হ্যাঁ সূচক জবাব দিয়ে ওই বাংলাদেশি নারী আরও বলেন, ‘এখনও সেখানে ১ কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু মানুষ থাকে। আমার অনুরোধ, দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। আমরা দেশ ছাড়তে চাই না। সেখানে থাকতে আমাদের সহযোগিতা করুন। আমি আমার বাড়ি হারিয়েছি। তারা বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। আমার জমি ছিনিয়ে নিয়েছে। কিন্তু কোনও বিচার হয়নি।’

কারা তাদের নির্যাতন করছে ট্রাম্প জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মুসলিম মৌলবাদী ও উগ্রপন্থীরা এ কাজ করছে এবং সবসময় তারা রাজনৈতিক আশ্রয় পাচ্ছে।’

হোয়াইট হাউসের এই ভিডিও ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ভাইরাল হয়েছে। এ নিয়ে হইচই পড়ে গেছে নেট দুনিয়ায়। ট্রাম্পের কাছে করা প্রিয়ার অভিযোগের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন ব্যবহারকারী বাংলাদেশি নাগরিকরা। উঠেছে দেশদ্রোহীতার প্রশ্নও।

প্রিয়া সাহা বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ‘শারি’-এর নির্বাহী পরিচালক। এছাড়া, বাংলাদেশ মহিলা ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার স্বামী মলয় সাহা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক। কয়েক বছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রিয়া সাহার দুই মেয়ে বসবাস করছেন। কিছুদিন পূর্বে সেখানে যান প্রিয়া সাহা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

সর্বশেষ খবর