উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রবাসী নুর আহমদের জীবনে ঘটে গেছে এক মর্মান্তিক ঘটনা। প্রবাসে কাটানো দীর্ঘ ১৬ বছরের ঘামঝরা জীবন আর কষ্টার্জিত অর্থ যখন মেয়ের সুখের জন্য ব্যয় করেন, তখন সেই মেয়ের প্রতারণার শিকার হতে হবে—এটা হয়তো কল্পনাতেও ছিল না এই অসহায় বাবার।
সৌদি আরবে কর্মরত অবস্থায় ২০১০ সালে বড় মেয়ে তৈয়বা বেগমের কাছে ১০ লাখ টাকা পাঠান নুর আহমদ, উদ্দেশ্য ছিল তার নামে জমি কেনা। কিন্তু বাবার সেই অগাধ বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে মেয়ে তৈয়বা জমিটি নিজের নামে লিখে নেয়। শুধু তাই নয়, ওই জমির একাংশ অন্যের কাছে বিক্রিও করে দেয় বলে অভিযোগ উঠে।
গত ৫ মার্চ, এই প্রতারণার ঘটনা সামনে আসে তৈয়বার স্বামী আব্দুল আলমের মাধ্যমে। শ্বশুরকে বিস্তারিত জানালে তৈয়বা ক্ষিপ্ত হয়ে স্বামী আব্দুল আলমকে নির্যাতন করে এবং বাড়ি থেকে বের করে দেয়। তিন বছর ধরে আব্দুল আলম সন্তানকেও দেখতে পারছেন না। চোখে জল এনে তিনি বলেন, আমি পড়ালেখা জানি না, কিন্তু বুঝতে পারি আমার স্ত্রী তার বাবাকে ঠকিয়েছে।
এটা আমাকে গভীরভাবে কষ্ট দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ওসমান গণি বলেন, নুর আহমদ দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে ছিলেন। তিনি সব সময় পরিবারকে ভালো রাখতে চেষ্টা করেছেন। কিন্তু মেয়ের এমন প্রতারণা মেনে নেওয়া কঠিন। তৈয়বা তার স্বামীকেও মেরে ঘর থেকে বের করে দেয়। আরেক প্রতিবেশী জাহেদ বলেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। একদিকে মেয়ে তার বাবাকে ঠকিয়েছে, অন্যদিকে স্বামীকে নির্যাতন করেছে। বাবার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ এবং পরিবারের প্রতি দায়িত্বশীলতা হারিয়ে গেলে সমাজে এমন করুণ পরিণতি দেখা দেয়।
অন্যদিকে, সৌদি আরব থেকে মোবাইল ফোনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নুর আহমদ বলেন, আমি শুধু বাবার দায়িত্ব পালন করেছি। এখন দেশে ফিরতে ভয় হয়, কারণ মেয়ে আমাকে দেশে না আসার হুমকি দিচ্ছে। আমি খুবই অসহায়। এই ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।