চাঁপাইনবাবগঞ্জে ককটেল বিস্ফোরনে আহত মহরমির দু’চোখই অন্ধ হয়ে গেছে

SIMANTO SIMANTO

BANGLA

প্রকাশিত: এপ্রিল ২২, ২০২১

 

পারভেজ মামুন”চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধিঃ-

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার গনকা-বিদিরপুর মহল্লায় ককটেলকে খেলনা ভেবে তা নিয়ে খেলার সময় বিস্ফোরনে কব্জির হারানোর সাথে মহরমির চোখের দৃষ্টিও ফেরানো আর সম্ভব হচ্ছে না। গত আড়াই মাসে ধরে কয়েক দফায় ঢাকায় চিকিৎসা করানো হলেও, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন মহরমির দু’চোখই অন্ধ হয়ে গেছে। নিরাশ হয়ে তাকে নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন তার স্বজনরা। দৃষ্টিহীন মহরমির সামনে তার ভবিষ্যত এখন অনিশ্চিত ।
শিশু মহরমি পায়নি নিরাপদ খেলার পরিবেশ, এ দায় কি আমাদের সমাজ। এখন তাকে অনিশ্চিত আগামীর পথে বেঁচে থাকার সংগ্রাম করতে হবে। আর যারা আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ককটেল ফেলে রেখেছিলো, তাদের শাস্তি কতটা হবে এমন প্রশ্ন অনেকের। একসময়য়ের প্রাণচাঞ্চল্য মহরমি এখন পর-নির্ভরশীল, মা বা বাড়ির অন্য সদস্যদের সহযোগিতা ছাড়া ইচ্ছে হলেও সে কোথাও যেতে পারছে না। মূলত মায়ের সহযোগিতা নিয়েই চলছে তার সব প্রাত্যহিক কাজ।
দৃষ্টিহীনদের স্কুলে সে সুযোগ পেলে ভর্তি হবে এমনই তার বাসনা। কিন্তু চাঁপাইনবাবগঞ্জে সে সুযোগ নেই। স্কুলে যাওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়ে মহরমি বলে আমি তো অন্ধ হয়ে গেছি, যদি সুযোগ পায় এখন অন্ধদের স্কুলে ভর্তি হব। মহরমির মা মাসকুরা খাতুন জানান, গত ১ ফেব্রুয়ারী ককটেল বিস্ফোরনে তার কব্জী উড়ে যায় এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে দেখা যায় চোখও মারত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এরপর চোখের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। মিরপুরের বাংলাদেশ আই হসপিটালের প্রফেসর ডা. গোলাম রসুলের তত্বাবধানে তাকে চিকিৎসা দেয়া হয়।
কয়েকদফা চেষ্টার পর তিনি জানিয়েছেন সে আর দৃষ্টি ফিরে পাবে না। তিনি আরো জানান, তার নষ্ট হয়ে যাওয়া দুই চোখের মধ্যে একটা চোখে কিছু ককটেলের ইসপ্লিন্টার রয়ে গেছে, সে কারণে অপারেশন করে চোখটিই অপসারণ করতে হবে দ্রুতই এবং তাতে খরচ হবে ৫০ হাজার টাকা। টাকা জোগাড় করে ঈদের পর চোখ অপসারণ করবেন।
এদিকে ককটেলে বিস্ফোরনের পর, এলাকার বিবাদমান দু’টি গ্রুপের অন্তত ১৫ জনকে আসামী করে পুলিশ মামলা দায়ের করেছিল। সেই মামলায় সেই সময় অনেকেই গ্রেফতার হয়ে, ফের জামিনে বের হয়ে এসেছেন। সদর মডেল থানার ওসি মোজাফফর হোসেন জানান, ওই ঘটনার পর পুলিশ বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেছিল। আসামীদের গ্রেফতার করা হয়েছিল, কিন্তু এখন অনেকেই জামিনে আছেন। তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে, দ্রুত মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হবে।

সীমান্তবাংলা/ ২২ এপ্রিল ২০২২