সারাদেশে কতিপয় দুষ্কৃতকারী দেশে গরুর মাংসের মূল্য বৃদ্ধির সুযোগে গোপনে অভ্যাহত ভাবে অসুস্থ, মুমূর্ষ বা মৃত ঘোড়া গরু বা ছাগলের মাংস বা বিভিন্ন নামে বিক্রি করছে। যা বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের গ্রেফতার করার পরও সঙ্ঘবদ্ধ চক্র পুনরায় একই অপরাধে জড়াচ্ছে। মূলত প্রাণিকল্যান আইন ২০১৯ ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এবং পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১১ ও পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা ২০২১ সহ দেশের প্রচলিত সংশিষ্ট আইনে যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় দুষ্ট প্রকৃতির মানুষগুলো এই সুযোগে অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছে। অথচ যুক্তরাষ্ট্রে, যুক্তরাজ্য, আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, ইসরায়েল, ব্রাজিল, আয়ারল্যান্ড সহ বিশ্বের অসংখ্য দেশ ব্যাপক স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে ঘোড়া জবাই ও মাংস ক্রয় বিক্রয় নিষিদ্ধ করেছে। উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে ঘোড়াকে বন্ধু হিসেবে দেখে, খাদ্য হিসেবে নয়। তাই আমাদেরও উচিত দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করা।
শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে সেভ দ্য ন্যাচার অব বাংলাদেশ চেয়ারম্যান আ ন ম মোয়াজ্জেম হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত উক্ত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ এনিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আহবায়ক আদনান আজাদ, জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটি সাবেক যুবনেতা সাইদুর রহমান সোহেল, শিক্ষাবিদ মোহাম্মদ সোহেল, লেখক : গবেষক ও রাষ্ট্রচিন্তক আসাদ পারভেজ, ফারী ফ্রেন্ডস ফাউন্ডেশনের জয়েন্ট সেক্রেটারী ফরহাদ জামান রুদ্র, এ এল বি এনিমেল শেল্টারের চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্টাতা দ্বীপান্বিতা হৃদি, ছাত্রনেতা বিনয় চাকমা, আব্দুল কাইয়ুম রক, নিকিতা আহমেদ, জুলাই যোদ্ধা জিয়াউর রহমান খন্ধকার, ডগ লাভার্স রাঙ্গামাটির প্রতিনিধি শুভ্র দেওয়ান, রিবেং তালুকদার, ছাত্রনেতা মোহাম্মদ ইদ্রিস, রুবেল মোল্লা, ফিরোজ, ফাহিম আহম্মেদ প্রমুখ।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, কেন ঘোড়ার মাংসে ভয়ংকর স্বাস্থ্য ঝুঁকি এই বিষয়ে বক্তারা বলেন, ঘোড়ার মাংসে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও পরজীবীর উপস্থিতি শতভাগ। বিশেষ করে মানবদেহের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর Salmonella ও Trichinella যা খাদ্য বিষক্রিয়ার অন্যতম উপাদান। যার উপস্থিতি শুধু ঘোড়ার মাংস খাওয়া ব্যাক্তিকে আক্রান্ত করেনা বরং সংস্পর্শে আসা মানুষের দেহে ছড়িয়ে পড়ে এবং ক্ষতিকর রোগের সৃষ্টি করে। তাছাড়া ঘোড়াকে প্রায়শই এমন কিছু ওষুধ দেওয়া হয় যা মানুষের জন্য নিরাপদ নয়, যার অন্যতম হল Phenybutazone যা ব্যাথা নাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ঘোড়ার মাংসের মাধ্যমে মানুষের দেহে প্রবেশ করলে মানবদেহে Aplastic Anaemia বা ক্যান্সারের ঝুঁকি তৈরী করে বলে প্রমানিত। তাই বিশ্বের অসংখ্য দেশ মানবদেহের জন্য এই মেডিসিন নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি এই মেডিসিন ব্যবহার করা ঘোড়ার মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ করেছে।
অন্যদিকে বানিজ্যিক, পোষা বা রেসের ঘোড়াগুলোকে সারাজীবন বিভিন্ন ধরনের স্টেরয়েড ইনজেকশন দেওয়া হয়। তাই ঘোড়ার মাংস থেকে মানবদেহ সংক্রমিত হলে অঙ্গ প্রত্যঙ্গ বিকলাঙ্গ হওয়া সহ খুব বেশি স্বাস্থ্য ঝুঁকি থাকায় এটি সম্পূর্ণ বর্জন করা উচিত। এছাড়াও ঘোড়ার সারকোসিস্টিস ফ্যায়েরি প্রোটোজোয়া (স্পরোজোয়া) সংক্রমনের একমাত্র হোষ্ট কুকুরের মল। চীনের এক গবেষণায় দেখা গেছে কুকুর তাদের মলের মাধ্যমে স্পোরোসিস্ট নি:সরণ করে যা ঘাস সহ বিভিন্ন খাবার এবং পানির মাধ্যমে ঘোড়ার দেহ সংক্রমিত হয় এবং সারকোসিস্টিস ফ্যায়েরি সিস্টগুলি ঘোড়ার টিস্যুর মধ্যে বিকাশ লাভ করে। তাই মানুষ বা কুকুর ঘোড়ার মাংস খেলে সারকোসিস্টিস ফ্যায়েরি প্রোটোজোয়া পরজীবী সংক্রমনের শিকার হয় যা স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি করে।
তাছাড়াও গবেষণায় দেখা গেছে ঘোড়ার কলিজা (Liver এবং কিডনিতে প্রচুর পরিমাণ ক্যাডমিয়াম (Cadmium) জমা থাকে। এই বিষাক্ত ভারী ধাতু মাংসের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করে মানুষের শরীরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গের ক্ষতি করে। অনুরুপ ভাবে ঘোড়ার মাংসে উচ্চ মাত্রার লবণ ও চর্বি থাকে যা আহারে একজন ব্যক্তিকে কার্ডিয়াক রোগ এবং বিপজ্জনক উচ্চ মাত্রার উভয়ই অ্যাডিটিভ গ্রহণের ফলে অন্যান্য অবস্থার গুরুতর ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
এর ফলে তাছাড়াও ঘোড়ার মাংস খেরে Epigastric ব্যাথা, স্বাদহীন, Hypersensitivity, থাইরয়েড গ্রন্থি কম কার্যকলাপ, হাড় মজ্জা বিষণ্ণতা, বমি বমি ভাব, চামড়া ফুসকুড়ি, পেট খারাপ, তীব্র বিষাক্ততার সৃষ্টির প্রমান পাওয়া গেছে বিভিন্ন গবেষণা থেকে।