নাইক্ষ্যংছড়ি ঘুমধুম ইউনিয়নের বৃহত্তর তুমব্রু পশ্চিমকুল এলাকায় পাহাড় কেটে জায়গা দখলের পাঁয়তারা চালাচ্ছে একটি চক্র। আর এর নেতৃত্বে রয়েছে এলাকার চিহ্নিত এক চোরাকারবারি। তুমব্রু এলাকার আবু তাহেরের পুত্র নুরুল ইসলাম খোকনের নেতৃত্বে ৭/৮ জনের চক্রটি অবাধে পাহাড় কাটায় হুমকির মুখে পড়েছে প্রকৃতির ভারসাম্য।
সম্প্রতি সরেজমিন গিয়েও মিলেছে অভিযোগের সত্যতা। নির্বিচারে পাহাড় কাটার পর একই জায়গায় কলাগাছ রোপণ করে দখল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে সংঘবদ্ধ এই চক্রটি। তার এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে স্থানীয়রা অভিযোগ করলে প্রাণনাশের হুমকি দেন। দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করতেও এগিয়ে আসেন বলে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নিশ্চিত করেছেন।
পৃথিবীর লোহদণ্ড বলা হয় পাহাড়কে। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় যার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। এর ওপর ভর করেই প্রকৃতি তার ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। অথচ এক শ্রেণির ভূমিদস্যু নিজেদের স্বার্থ হাসিলে সেই পাহাড়গুলোকে সাবাড় করছে। স্থানীয়রা জানান, সীমান্তবর্তী নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় ঘুমধুম ইউনিয়নে ছোট-বড় মিলিয়ে শতাধিক পাহাড় রয়েছে। তবে সে সব পাহাড়েও নজর পড়েছে ভূমি খেকোদের থাবা।
তারা আরও জানান, চোরাকারবারি খোকন এলাকার বিভিন্ন মানুষের জায়গা-সম্পত্তি লুট করাসহ সীমান্তের অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। গত ৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে আঁতাত করে সীমান্তের অবৈধ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে আসছে তার নেতৃত্বে একটি বিশাল সিন্ডিকেট।
জানতে চাইলে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে খোকন বলেন, আমার বিরুদ্ধে আসা অভিযোগগুলো সত্য নয়। আমি আমার জায়গায় মাটি কাটছি। এতে কারও অভিযোগ থাকার কথা নয় বলে জানান তিনি।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) নেতা সাংবাদিক নুর মোহাম্মদ সিকদার বলেন, পাহাড় কাটার মতো জঘন্য কাজে যারা জড়িত তারা পরিবেশের শত্রু ও দেশের শত্রু। পাহাড়খেকোদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)
মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ঘুমধুমে উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদফতরের নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হয়। পাহাড় কাটার মতো অপরাধ কেউ করলে তার বিরুদ্ধে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।