“কোক ষ্টুডিও বাংলা, বাংলাদেশ নয় কেনো” যতো বিতর্ক!!

SIMANTO SIMANTO

BANGLA

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৩, ২০২২

 

মঈনুদ্দীন শাহীন ;
কোক স্টুডিও বাংলা হল একটি আন্তর্জাতিক সঙ্গীত অনুষ্ঠান চ্যানেল যার পুরো বিশ্বজুড়ে ক্ষ্যতি রয়েছে। আন্তর্জাতিক সঙ্গীত ফ্র্যাঞ্চাইজি যেখানে প্রতিষ্ঠিত এবং উদীয়মান শিল্পীরা স্টুডিওতে সঙ্গীত পরিবেশন করেন।
কোমল পানীয় প্রস্তুতকারী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান কোকা কোলার প্রযোজনায় আয়োজিত ফিউশন ভিত্তিক গান নিয়ে তৈরি টেলিভিশন সিরিজ ‘কোক স্টুডিও’ বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কোক স্টুডিও বাংলা’ নামে যাত্রা শুরু করার পর এই উদ্যোগের পক্ষে বিপক্ষে নানা রকমের সমালোচনা হয়েছে।

বাংলাদেশে গতো ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২ তারিখে ঢাকার একটি হোটেলে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালেদ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক অনুষ্ঠানটির উদ্বোধন করেন। ভারত ও পাকিস্তানের নন্দিত শিল্পীদের নিয়ে সেইসব দেশের কোক স্টুডিওর অনুষ্ঠান বাংলাদেশে জনপ্রিয় হওয়ায় বাংলাদেশে কোক স্টুডিও বাংলা চালু করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। বাংলাদেশে কোক স্টুডিও র পৃষ্ঠপোষকতায় রয়েছেন ‘কোকা-কোলা’ এবং সমন্বয়ে রয়েছেন ‘গ্রে বাংলাদেশ’। এদেশে কোক ষ্টুডিওর নির্মাতা হিসেবে রয়েছেন শায়ান চৌধুরী অর্ণব ও গাওসুল আলম শাওন।

বাংলাদেশে কোক ষ্টুডিও নিয়ে বিতর্ক কেনো?

এশিয়ায় দেশ ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গীতাঙ্গনের উৎকর্ষে কোক স্টুডিও নামটির সাথে যার যার দেশটির দেশটির নাম যুক্ত আছে যেমন ভারতেরটি কোক স্টুডিও ইন্ডিয়া ও পাকিস্তানেরটি কোক স্টুডিও পাকিস্তান বলে নামকরণ করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশে কোক স্টুডিওর নামের সাথে বাংলাদেশ না দিয়ে শুধুমাত্র বাংলা শব্দটি ব্যবহার করায় শুরু হয়েছে আলোচনা সমালোচনা। অনেকে আক্ষেপ করে এটি ভারতের সঙ্গীতাঙ্গনের সহযোগী বলতেও দ্বীধা করেননি।

এছাড়া সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি বাঙ্গালী জাতীর বুক নাড়া দিয়েছে সেটি হলো, চ্যানেলটি লঞ্চ হয়ে মহান ভাষার মাসে প্রথম গানটিই প্রচার করে হাজং ভাষায় যার কথা ছিলো ” নাসেক নাসেক ” এই গানটি প্রকাশিত হয় ( ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২২)। গানটির শিল্পী ছিলেন অনিমেষ রায় ও পার্থ কানাই। একদিকে কোক স্টুডিও বাংলাদেশ না লিখে যেমন বিশাল সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন তারা অন্যদিকে মহান ভাষার মাসে অন্য ভাষার গান দিয়ে চ্যানেল চালু করা নিয়ে সচেতন সঙ্গীত প্রিয় ও সাধারণ মানুষের মাঝে দেখা দিয়েছে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া। অনেকে এই চ্যানেলটি বয়কটের ঘোষণা ও দিয়েছেন বিভিন্ন কমেন্টে। অধিকাংশ শ্রোতা ও দর্শক এই চ্যানেলটি “কোক ষ্টুডিও বাংলা” রাখার পেছনে ভিন্ন উদ্দ্যেশ্যে অর্থাৎ এক ঢিলে দুই পাখী মারার চাহিদা নিয়ে মাঠে নেমেছেন বলে মত প্রকাশ করেছেন।

ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে কোক ষ্টুডিও তাদের চ্যানেলে দ্বিতীয় গানটি প্রকাশ করে গতো ১ এপ্রিল ” শিল্পী মমতাজের কন্ঠে আল্লাহ মেঘ দে পানি দে ”
তবে এখানে কোক ষ্টুডিও কতৃপক্ষ ধরা পড়ে গেছেন তাদের নিজস্ব ভুলে। ২৩ ফেব্রুয়ারী প্রকাশ করা “নাসেক নাসেক ” গানটি চ্যানেল প্রথম গান থাকলেও সেটি বদল করে তারা, ১ এপ্রিল প্রকাশ করা মমতাজের কন্ঠে গাওয়া “আল্লাহ মেঘ দে পানি দে” গানটি প্রথম গান হিসেবে দেখাচ্ছে। যা নিয়ে দর্শকদের মাঝে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ কেউ সাধুবাদ জানালেও অধিকাংশ দর্শক এটিকে ভুল বলতে নারাজ।

তবে কোক স্টুডিওর সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা বিজ্ঞাপনী সংস্থা গ্রে এডভারটাইজিং বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গাউসুপ আলম শাওন জানিয়েছেন বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক পটভূমি মাথায় রেখেই অনুষ্ঠানের নামের সাথে ‘বাংলা’ শব্দটি সংযুক্ত করা হয়েছে।

তিনি বলছিলেন, “বাংলাদেশ পৃথিবীর একমাত্র দেশ যে দেশের নাম ভাষার নাম থেকে উৎপত্তি। আমাদের দেশের স্বাধিকার আন্দোলনের শুরুটা হয়েছিল ভাষা আন্দোলন থেকে। তাই এটা রাজনৈতিক বা ধর্মভিত্তিক আন্দোলনের চেয়ে বেশি সাংস্কৃতিক আন্দোলন।”

“তাই কোক স্টুডিও বাংলা বললে আমরা বাংলাদেশের সীমানার ভেতরে থাকা ১৭ কোটি মানুষ নয়, একবারে ৪০ কোটি বাংলা ভাষাভাষী মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারি।”

সীমান্তবাংলা / ১৩ এপ্রিল ২০২২