শনিবার, ১৩ Jul ২০২৪, ০৬:১১ পূর্বাহ্ন

কী করবেন সাইকেলে দুর্ঘটনায় ?

কী করবেন সাইকেলে দুর্ঘটনায় ?

শরীরচর্চা এবং যাতায়াতের জন্য বর্তমান সময়ে সবচাইতে উপযোগী মাধ্যম হচ্ছে সাইকেল। কিন্তু সাইকেল নিরাপদ হলেও এর মাধ্যমে দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে অনেক। সাইকেলের মাধ্যমে ঘটতে পারা এমন সম্ভাব্য কিছু দুর্ঘটনা এবং এ সম্পর্কে সতর্ক থাকার কৌশল নিয়ে লেখা হলো আজ।

পেলোটন ক্রাশ

অনেকসময় অনেকটা পথ ধরে বেশ কয়েকজন সাইক্লিস্ট সাইকেল চালান। এই দীর্ঘ ভ্রমণের ইতিবাচক দিক হলো, যে কোনো সমস্যায় একে অন্যকে পাশে পান তারা। এতে শারীরিক বা অন্যান্য সমস্যাগুলোর সমাধান পাওয়া সহজ হয়। যদিও তার নেতিবাচক দিকও আছে। আর এই নেতিবাচক দিকটির নামই হলো পেলোটন ক্রাশ।

এমন ক্রাশের ক্ষেত্রে অনেকটা সময় টানা সাইকেল চালানোয় ক্লান্ত সাইকেল আরোহী একে অন্যের সাথে ক্রাশ করতে পারেন। একসঙ্গে কয়েকটি সাইকেল পড়ে যাওয়ায় হাড় ভেঙে যাওয়া থেকে শুরু করে কনকাশন পর্যন্ত হতে পারে।

পেলোটন ক্রাশ থেকে বাঁচবেন কীভাবে?

পেলোটন ক্রাশ থেকে বাঁচতে আগে থেকেই কোন সাইক্লিস্ট কোথায় থাকবেন সেটা ঠিক করে নিন। প্রত্যেকের মধ্যে যেন অন্তত ১-২ মিটার দূরত্ব থাকে সেটা নিশ্চিত করুন। আর সাইকেলগুলোকে এক লাইনে রাখুন। এতে করে ক্রাশ করার সম্ভাবনা কমে যাবে। সাইকেল চালাতে চালাতে একটা সময় দূরত্ব কমে যাবে সাইকেলের মধ্যে। তখন যেন প্রতিটি সাইকেলের মধ্যে যথেষ্ট দূরত্ব বজায় থাকে সেটা নিশ্চিত করার জন্য আগে থেকেই পরিকল্পনা করে রাখুন। এতে করে হুট করে এমন কোনো সমস্যা তৈরি হবে না।

উঁচু স্থানে পড়ে যাওয়া

যারা সাইকেল চালান তারা খুব পছন্দ করেন একটু উঁচুনিচু পাহাড়ি স্থানে সাইকেল চালাতে। এতে করে একজন মানুষের হৃদস্পন্দন অনেক বেড়ে যায় এবং তিনি নিজেকে অনেক বেশি জীবন্ত বোধ করেন। এই অনুভূতি পেতেই অনেকে সাইকেল নিয়ে পাহাড়ে চলে যান। কিন্তু এর ফলে অনেক সমস্যাও তৈরি হয়। খুব ক্লান্তি চলে আসলে ও অন্যমনস্ক অবস্থায় পাহাড় থেকে হুট করে পড়ে যাওয়া এবং স্কিড করার মতো ব্যাপারগুলো দেখা যায়।

পড়ে যাওয়া থেকে বাঁচবেন কীভাবে?

সাধারণত, উঁচু স্থানে দুইভাবে এই ব্যাপারটি ঘটে থাকে। একটি হলো ওঠার সময়, আরেকটি হলো নামার সময়। ওপরে ওঠার সময় বেশিরভাগ সময় বসে থাকার চেষ্টা করুন। পা এমনভাবে রাখুন যেন কোনো সমস্যা হলে দ্রুত পা ছড়িয়ে নিজেকে পড়ে যাওয়া থেকে আটকানো যায়। ক্লান্ত লাগলে সাইকেল লো গিয়ারে চালান।

অন্যদিকে, পাহাড় থেকে নামার সময় নিজের ভরকে পুরোপুরি ছড়িয়ে দিন। সামনে এগোনোর আগে ভালোভাবে দেখে নিন যেন হুট করে কোনো সমস্যায় না পড়তে হয়। এমন নির্দিষ্ট কিছু ব্যাপার মাথায় রাখলেই দুর্ঘটনা থেকে দূরে থাকতে পারবেন আপনি।

গর্তে ক্রাশ করা

আপনার চলার পথে গর্ত থাকতেই পারে। এই গর্তের জন্যই অনেকে সাইকেল চালানোর সময় দুর্ঘটনা ঘটিয়ে থাকেন। সাধারণত, এমন দুর্ঘটনায় মানুষের হাত বা ঘাড়ের হাড় স্থানান্তরিত হয়ে যায়।

এমন দুর্ঘটনা থেকে বাঁচবেন কীভাবে?

গর্ত থেকে বাঁচার সবচাইতে সহজ উপায় হলো রাস্তায় সাইকেল চালানোর সময় সতর্ক থাকা এবং রাস্তা ভালোভাবে দেখে নেওয়া। এছাড়াও গর্তের ওপর দিয়ে সাইকেল চালাতে হলে খানিকটা উঁচু হয়ে, হালকাভাবে সাইকেলের হ্যান্ডেল ধরুন। গর্তের ধাক্কাটা বাহু এবং পা-কেই সামলাতে দিন। এতে করে আপনার শরীর কিছুটা হলেও কম আক্রান্ত হবে।

সাইকেল চালানোর সময় এমন দুর্ঘটনা অহরহ ঘটতেই পারে। প্রাথমিকভাবে ভয় না পেয়ে বিশ্রাম নিয়ে এবং বরফ ব্যবহার করেই আক্রান্ত স্থানকে ঠিক করতে পাবেন আপনি। এছাড়া, শরীরের কোনো স্থান কেটে গেলে ও সেখান থেকে রক্ত পড়লে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করুন। তবে যদি এর চাইতে বেশি আঘাত লাগে, সেক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন ও ব্যবস্থা নিন। এতে করে আপনার আঘাতপ্রাপ্ত স্থান দ্রুত ঠিক হয়ে যাবে।

সূত্র- মাউন্ট এলিজাবেথ হসপিটাল

পোষ্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© কপিরাইট ২০১০ - ২০২৪ সীমান্ত বাংলা >> এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ

Design & Developed by Ecare Solutions