কক্সবাজারে দোকান ও শপিং মলে নেই স্বাস্থ্যবিধির বালাই || করোনাকে তোড়াই কেয়ার করছে জনসাধারন!!

SIMANTO SIMANTO

BANGLA

প্রকাশিত: মে ১৬, ২০২১

মঈনুদ্দীন শাহীনঃ
বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাস সংক্রমন কালেও ঈদকে সামনে রেখে কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন অঞ্চলের বাজার, শপিংমল ও ফুটপাতগুলোতে দেখা গেছে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। মাস্কবিহীন ক্রেতা সাধারনের ভীড় দেখে মনে হয়েছে দেশে করোনা সংক্রমন বা লকডাউন বলতে কিছুই নাই।

গতো( ১৩ মে ২০২১) বৃহস্পতিবার ঈদের আগের দিন হওয়ায় কক্সবাজার জেলার উখিয়া, কোটবাজার মরিচ্যা সহ বেশ কিছু বাজার ঘুরে দেখা গেছে বাজারগুলোতে ক্রেতা সাধারনের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো থাকলেও সরকারী স্বাস্থ্য বিধি মানার ক্ষেত্রে তেমন কোন প্রতিক্রিয়াই চোখে পড়েনি। বেশির ভাগ দোকানদারের দোকানের বাইরে নো মাস্ক নো সার্ভিস লেখা স্টীকার সাঁটানো থাকলেও ভেতরে প্রবেশ করে দেখা গেছে কোন দোকানীর মুখে মাস্ক নেই। এক দোকানীকে মাস্ক পড়েননি কেনো জিজ্ঞেস করলে প্রতি উত্তরে তিনি বলেন কতোক্ষন মাস্ক পড়ে থাকা যায়, আর আমরা গ্লাসের ভেতর আমাদের সংক্রমন হবেনা।

পবিত্র ঈদুল ফিতর মুসলমান সম্প্রদায়ের জন্য সবচেয়ে একটি বড় আনন্দের দিন। উৎসবের এই দিনটিতে কেনা কাটা বা নতুন জামা কাপড় না কিনলে কি চলে! আনন্দ উৎসবের জন্য প্রতিটি পরিবার তাদের ছেলে মেয়েদের জন্য সামর্থ্য অনুযায়ী নতুন জামা কাপড় কেনাকাটায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন সব শ্রেণীর পেশার মানুষ। কেউ নিজের জন্য না কিনে পরিবারের সদস্যদের জন্য আবার কেউবা আত্মীয়-স্বজন বা প্রিয়জনের জন্য করেন কেনাকাটা। উৎসব পালনের প্রস্তুতির এই দিনটিতে কেনাকাটায় ধুম পড়লেও করোনাকালীন সময়ে সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্য বিধির দিকে যেনো খেয়ালই ছিলোনা কারো। মহামারী করোনা ভাইরাস সংক্রমনের দ্বিতীয় ঢেউ সামলাতে সরকার যেখানে হিমশিম খাচ্ছে সেখানে দেশের জনগন স্বাস্থ্য বিধি মানার ক্ষেত্রে মাঠ প্রশাসনের সাথে যেনো চোর পুলিশ খেলার মতো আচরন করছে। মানে পুলিশের গাড়ী বা পুলিশ দেখলেই মুখে মাস্ক পড়ে আর পুলিশ চলে গেলেই মাস্ক খুলে ফেলে।

কক্সবাজার জেলার বেশ কিছু দোকান মালিকদের সাথে কথা বলে জানাযায় রোজার শেষ সময়ে পবিত্র ঈদুল ফিতরের পোষাক বিক্রির সাথে সাথে ঈদে আনন্দ উৎসব করতে মেহেদীসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দোকানে বেচা কেনা আশানুরূপ হওয়ায় তারা খুশি। সরকারী স্বাস্থ্য বিধি মেনেই তারা এসব শপিং মল ও দোকান পাট পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু বাস্তবে গিয়ে এ প্রতিবেদক দেখেছে ঠিক তার উলটো চিত্র। ক্রেতা তো দূরে থাক বিক্রেতাদের ও অধিকাংশের মুখে মাস্ক নেই।

কক্সবাজারের বাজার ঘাটাসহ বেশ কিছু বাজারে গিয়েও দেখা গেছে একই অবস্থা, মানে করোনা যেনো বাজারে প্রবেশই করতে পারেনা।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে বাজার ও শপিং মল গুলোতে যেভাবে উপচে পড়া ভীড় লক্ষ্য করা গেছে তার ন্যুনতম স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয় লক্ষ্য করা যায়নি ক্রেতা সাধারনের মাঝে। অতচ সরকারী স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে প্রতিদিনই করোনা সম্পর্কিত সচেতনতা মুলক মাইকিং করা হলেও কেউ পাত্তাই দিচ্ছেনা এসব নির্দেশনাকে। ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য বিধি না মানায় বেশ কিছু ব্যক্তি এবং প্রতিষ্টানকে জরিমানাও করা হয়েছে। তবুও কেউ মানছেনা স্বাস্থবিধি।


স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন এমন অবস্থা চলতে থাকলে দেশে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট বাংলাদেশে ছড়াতে শুরু করলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ রুপ নিতে পারে, যা সামলানো কঠিন হবে। তাই এ বিষয়ে এখন থেকে মানুষের সচেতনতা অবলম্বন করা উচিত।

সীমান্তবাংলা / ১৬ মে ২০২১