শুক্র. আগস্ট ২৩, ২০১৯

উখিয়া হাসপাতালের দূর্নীতিবাজ স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: আব্দুল মান্নানের অপসারণসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী উঠেছে

ক্রাইম প্রতিবেদকঃ উখিয়ায় সুশিল সমাজের পক্ষ থেকে উখিয়া হাসপাতালের দূর্নীতিবাজ স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: আব্দুল মান্নানের অপসারণসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী উঠেছে। এই বিষয়ে কক্সবাজার সিভিল সার্জন বরাবরে মু‌ক্তি‌যোদ্ধা সাংবা‌দিক, রাজ‌নৈ‌তিকও নাগ‌রিক সমা‌জের বি‌ভিন্ন স্ত‌রের ২১১জ‌নের স্বাক্ষর সম্ব‌লিত এক স্বারক‌লি‌পি প্রদান করা হয় বলে জানা গেছে।

উখিয়ার আড়াই লক্ষাধিক নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে উখিয়া হাসপাতালের সীমাহীন অনিয়ম অব্যবস্থাপনার তথ্য নিয়ে স্বারক লিপিতে বলা হয়েছে। (১) স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: আব্দুল মান্নান সাহেব উখিয়া হাসপাতালের একটি সুনির্দিষ্ট ভৌগলিক সীমারেখা থাকা স্বত্বেও হাসপাতালের পূর্ণাঙ্গ সীমানা ঠিক না করিয়া সীমানা নির্মানের কাজ শুরু করে দেয়। উখিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনা কমিটিকে পাশ কাটিয়ে পার্শ্ববর্তী লোকদের ব্যক্তিগত সুবিধার্থে প্রায় ৪০ শতক হাসপাতালের জায়গা ছেড়ে দিয়ে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার গভীর ষড়যন্ত্র করে আসছিল, এছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্য মহোদয়, উপজেলা চেয়ারম্যান মহোদয়, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাউকে অবগত না করিয়া টিকাদারের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে প্রাচীর নির্মাণ কাজ শুরু করিলে উখিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরজমিনে উপস্থিত হয়ে কাজ স্থগিত করার নির্দেশ দেন। এই সমস্ত কর্মকান্ডের জন্য কি স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: আব্দুল মান্নান সাহেব দায়ী নয়?

(২) সরকারের এই ১০০ বেডের হাসপাতালে শূধুমাত্র ১ জন জরুরী বিভাগের ডাক্তার দিয়েই কোন রকম দায়সারাভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, রাত্রে চিকিৎসা গ্রহনকারী রোগীরা ডাক্তার ও নার্সের যথাযথ সেবা পাচ্ছেন না, অথচ হাসপাতালে সরকারী ও এনজিও মিলে ৪০ জন নার্স কর্মরত রয়েছেন। এই সমস্ত কর্মকান্ডের জন্য কি স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: আব্দুল মান্নান সাহেব দায়ী নয়?(৩) এই হাসপাতালের নিচে স্থাপিত “মা ও শিশু- নিমানিশু” ইউনিটে সম্প্রতি ২ টি ল্যাপটপ ও ১ টি সিসি টিভি চুরি হয়ে গেলেও অদ্যাবধি কোন ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এই হাসপাতালে সরকারি ও বেসরকারি ৭/৮ জন নিরাপত্তা প্রহরী থাকা স্বত্বেও কিভাবে হাসপাতালের সরকারি এত সরঞ্জাম লুটপাট হয়ে যাচ্ছে? এমতবস্থায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: আব্দুল মান্নান সাহেব যদি আইন শৃঙ্খলাবাহিনীকে অবগত করিলে তাৎক্ষণিক সরঞ্জামগুলো উদ্বার হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। এই সমস্ত কর্মকান্ডের জন্য কি স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: আব্দুল মান্নান সাহেব দায়ী বলে মনে করেন স্থানীয় নাগরিক বৃন্দ।

(৪) এই হাসপাতাল ল্যাবে ২ জন ল্যাব টেকনেশিয়ান ডা: আব্দুল মান্নান যুগের পূর্বে সিফট ডিউটি করে সন্ধ্যা অবধি সেবা দিয়ে যেতেন, কিন্তু এখন দুপুর ২ টার পরে কোন ল্যাব টেকনেশিয়ান পাওয়া না যাওয়ায় অনেক রোগীরা চিকিৎসাবিহীন ফিরে যায়। (৫) এই হাসপাতালের দূর্নীতির বরপূত্র হচ্ছেন- স্যানিটারি ইন্সেপেক্টর নুরুল আলম। তিনি উখিয়ার ছেলে হিসেবে প্রভাব কাটিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: আব্দুল মান্নান সাহেবকে বশীভূত করে অত্র হাসপাতালকে দূর্নীতির আখড়ায় পরিনত করেছে। তিনি নিজ উপজেলার একজন কর্মকর্তা হয়ে চাকুরী করার কতটুকু বিধিসম্মত? তিনি উখিয়ার বিভিন্ন হোটেল রেষ্টুরেন্ট হতে থানার ক্যাশিয়ারের মতো মাসিক মাসোয়ারা নেওয়ার জনশ্রæতি রয়েছে।

(৬) এই হাসপাতালের আবাসিক ভবনগুলোতে এক প্রকার হরিলুট চলছে। অনেকেই বাসা ভাড়া না দিয়েই বসবাস করছেন, আবার কেউ কেউ উপভাড়াও দিচ্ছেন। এইসব কিছু সম্ভব স্বাস্থ’্য কর্মকর্তা ডা: আব্দুল মান্নান সাহেবকে খুশী করতে পারলে? (৭) এই হাসপাতালে বর্তমানে ৩ টি সরকারি এম্বুলেন্স থাকা স্বত্বেও ১ টি এম্বুলেন্স সচল রেখে বাকি ২ টি গাড়ি হিমাগারে রাখা হয়েছে কার স্বার্থে? অনেক রোগী দিনে রাতে যথাসময়ে এম্বুলেন্স না পেয়ে জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে অবগত করিলে প্রতি উত্তরে বলে এম্বুলেন্সের হরেক রকম অজুহাত দেখিয়ে বিকল্প গাড়ি ব্যবস্থা করার আদেশ দিয়ে থাকেন। এই সমস্ত কর্মকান্ডের জন্য কি স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: আব্দুল মান্নান সাহেব দায়ী নয়?

(৮) এই হাসপাতালে দন্ত চিকিৎসক ডা: রাজীব নাথ থাকা স্বত্বেও সে কোন দন্ত রোগীকে চিকিৎসা প্রদান করেনা এবং সমস্ত দন্ত রোগীদেরকে তাহার প্রাইভেট ল্যাবে (উখিয়া সেঞ্চুরী ল্যাব) দেখা করার পরামর্শ দিয়ে স্থানীয় অসহায় রোগীদের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। এই সমস্ত কর্মকান্ডের জন্য কি স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: আব্দুল মান্নান সাহেব দায়ী নয়? (৯) এই হাসপাতালে বহি: বিভাগের প্রত্যেকটা ডাক্তারের রুমে রোগীদেরকে সেবা দেওয়ার মত কোন সরঞ্জাম নেই। কোন একজন রোগী যদি বলে “আমার ঘাড় ব্যথা করতেছে এবং আমার পেশারটা একটু মেপে দেখেন” তাহলে ডাক্তার বলে এইখানে এসব মাপার বা দেখার কোন মেশিন বা সরঞ্জাম নেই। এই সমস্ত কর্মকান্ডের জন্য কি স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: আব্দুল মান্নান সাহেব দায়ী নয়?
(১০) এই উখিয়া হাসপাতালের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: আব্দুল মান্নান সাহেব তার সরকারি গাড়িটি ব্যক্তিগত গাড়ি হিসেবে ব্যবহার করে নিয়মিত তার পৈত্রিক নিবাস চট্টগ্রামের আনোয়ারায় যাতায়ত করে থাকেন। এভাবে প্রতিটি সেক্টরে তাঁর অনিয়ম, দূর্নীতি বিদ্যমান রয়েছে, যা সুষ্টভাবে তদন্ত করলে তাঁর প্রত্যেকটা অপকর্ম বেরিয়ে আসবে।

(১১) সম্প্রতি উখিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বি এস সি শিক্ষক রফিক উদ্দিন (মোবাইল: ০১৮১৯৬০৩৩৯১) তার অসুস্থ মামীকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করান, রোগির অবস্থা ভেদে অক্সিজেন দেওয়ার প্রয়োজন হলে, খালি অক্সিজেন সিলিন্ডার দেয়া হলে কর্তব্যরত নাসের সাথে ঐ বি এস সি রফিকের যুক্তিতর্ক হয়, ফলে তিনি এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা চেয়ারম্যান ও টি এইচ ও সাহেব কে মোবাইল ফোনে বিষয়টি অবহিত করলে প্রায় ৪৫ মিনিট পরে স্টোর থেকে গ্যাস সিলিন্ডার এনে রোগিকে গালানো হয়, নেভোলেসার মেশিং দেয়া হয়নি। উপরন্তু ‘বি এস সি’ রফিকের সাথে দুর্ব্যবহার করেছেন। (১২) উপরে বর্ণিত বিভিন্ন অনিয়ম অব্যবস্থাপনর চিত্র হাসপালাতের প্রতিটি রন্দ্রে রন্দ্রে বিরাজ করছে। যা সুষ্টভাবে তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে।

উপরোক্ত অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে তারা সিভিল সার্জন বরাবরে উখিয়াবাসীর  সুষ্টভাবে স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে অনিয়ম অব্যবস্থপনায় নির্মজ্জিত দুর্নীতিবাজ টিএইচও ডা: আব্দুল মান্নানের দ্রুত অপসারণসহ শাস্তিমুলক ব্যবস্থ্যা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন। এসময় ‍সিবিল সার্জন নেতৃবৃন্দের সাথে আলাপ করে আশ্বস্থ করেন।

স্বারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন কৃষকলী‌গের সভাপ‌তি সোলতান মাহমুদ চৌধুরী, উপ‌জেলা যুবলী‌গের মু‌জিবুল হক আজাদ, সহ সভাপ‌তি রতন কা‌ন্তি দে, রাজাপালং কৃষকলী‌গের সভাপ‌তি সাংবা‌দিক মোস‌লেহ উ‌দ্দিন, ইউ‌নিয়ন যুবলী‌গের সভাপ‌তি রা‌সেল উ‌দ্দিন সুজন, মাসুদ আ‌মিন সা‌কিল, আবুল হা‌সেম, যুবলীগ নেতা হা‌নিফ সি‌দ্দি‌কি, নুরুল ইসলাম, রু‌বেল ও বেলাল প্রমুখ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

সর্বশেষ খবর