মঙ্গল. অক্টো. ২৩, ২০১৮

উখিয়ায় ইলিশের দাম কিছুটা কমেছে

মোসলেহ উদ্দিন © উখিয়ার হাটবাজারে শাক সবজ্বির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আগাম শীতকালীন শাক সবজ্বি বাজারে আসার কারণে প্রচুর পরিমাণ শাক সবজ্বি দোকানে মজুদ রয়েছে। নিত্য পণ্যের বাজারগুলোতে সপ্তাহের ব্যবধানে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে ব্রয়লার মুরগি। বাজার ভেদে কেজি প্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে ক্রেতাদের নিকট থেকে অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি ব্রয়লার মুরগির ডিমের দামও বেড়েছে দ্বিগুন।

ব্যবসায়ীদের অজুহাত রোহিঙ্গাদের বিশাল চাহিদার সুযোগে মুরগির খামারীরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এদিকে বাজারে ইলিশের সরবরাহ বেশি থাকায় ছোট বড় সব ধরনের ইলিশের দাম কমেছে। বাজারে প্রতি কেজি মাঝারি আকারের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৩শ’ থেকে সাড়ে ৩শ’ টাকা ধরে। তবে ৮-৯শ গ্রামের ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬শ’ টাকা ধরে। এছাড়াও বাজারে চাল ও মাংসের দাম মোটামোটি স্থিতিশীল রয়েছে বলে ক্রেতা সাধারণের অভিমত।

নিত্যপণ্যের বাজারের ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কোরবানির ঈদের পর থেকে ব্রয়লার মুরগির দাম ছিল নাগালের মধ্যে। এ সময় প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগির বিক্রি হয়েছে ১২০ থেকে ১২৫ টাকা ধরে। এসময় ডিমের হালি বিক্রি হয়েছে ২৪ থেকে ২৮ টাকা ধরে।

এখন প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম নেওয়া হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা ধরে। মুরগি বিক্রেতারা জানান, ১৭৫ টাকার নিচে মুরগি বিক্রি করা সম্ভব হবে না। উখিয়া বাজারের মুরগি ব্যবসায়ী ছৈয়দ আলম জানান, আগে মুরগির খামারীরা তাদেরকে বাকীতে মুরগি দিয়ে যেত। রোহিঙ্গা আসার পর থেকে বাকীর প্রশ্নইতো উঠে না উপরোন্তু মুরগি পাওয়াটাই দুস্কর হয়ে পড়েছে।

তাদের খামারে গিয়ে ধর্ণা দিয়ে অতিরিক্ত পরিবহন খরচ ব্যয় করে মুরগি সরবরাহ আনতে গিয়ে প্রতি কেজি মুরগির দাম পড়েছে ১৭০ টাকা ধরে। তাই এসব মুরগি বাধ্য হয়ে ১৮০ টাকা ধরে বিক্রি করতে হচ্ছে। চাকবৈঠা গ্রামের একজন মুরগির খামারী মুন্সী মিয়ার সাথে আলাপ করা হলে সে জানান, মুরগির বাচ্চার দাম ও মুরগি লালন পালনসহ আনুসাঙ্গিক খরচাদি বেড়ে যাওয়ার কারণে মুরগির দাম বাড়িয়ে নিতে হচ্ছে। সে জানান, মুরগির খামার টিকিয়ে রাখতে হলে দাম একটু বাড়িয়ে নিতে হবে। ত ানা হলে তাদের পোষাবে না।

মাছ-মাংসের বাজারে গিয়ে দেখা যায়, প্রচুর পরিমাণ ছোটবড় ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছে নিত্যপণ্যের বাজার ভরপুর। মাছ বিক্রেতা ফরিদ আলম জানান, প্রতিদিন সকালে কক্সবাজার কস্তুরাঘাট আড়ৎ থেকে ৪/৫ গাড়ী মাছ বাজারে আসে। এদের মধ্যে অধিকাংশ ইলিশ মাছ। ক্রেতাদের প্রচুর চাহিদা থাকায় বিক্রিও হচ্ছে ভাল। বাজারের আরেক মাছ ব্যবসায়ী অমিয় বড়–য়া জানান, মাঝারি সাইজের ইলিশ সাড়ে ৩শ’ টাকা ও একটু বড় সাইজের ইলিশ ৬-৭শ’ টাকা ধরে কেজি প্রতি বিক্রি হওয়ায় ক্রেতারাও স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটা করছে।

বাজারে কয়েকজন ক্রেতা আমিনুল হক চাকুরী জীবি, মুদি দোকানী মিয়া জান, ও দিন মজুর আলি চাঁন সহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার ক্রেতার সাথে কথা বলে জানা যায়, চলতি মৌসুমে যে পরিমাণ ইলিশ বাজারে এসেছে তা বিগত দিনে দেখা যায়নি।

এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ এরশাদ বিন শাহীন জানান, সাগরে ইলিশ আহরণ বন্ধ থাকাকালীন সময়ে কোষ্টগার্ডের সহায়তায় তারা নিয়মিত অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত কারেন্ট জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ফেলেন। পাশাপাশি কারেন্ট জাল ব্যবহারকারী ফিশিং বোট মালিকদের জরিমানা করা হয়েছে যে কারণে সাগরে ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে আশংকা জনকভাবে।

এতে জেলেরা যেমনি ভাবে লাভবান হয়েছে একই ভাবে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ ইলিশের স্বাদ গ্রহণ করতে পারছেন। বাজারে সবজ্বি ব্যবসায়ী নুরুল হক, আব্দুর রহমান সহ আরো বেশ কয়েকজন ছোটখাট ব্যবসায়ী জানান, শীতকালীন শাক সবজ্বি আগাম বাজারে আসার কারণে শাক-সবজ্বির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

তারা জানান, আর কয়েক দিন পর সবজ্বির দাম আরো কমতে পারে। ক্রেতা সাধারণের অভিযোগ নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হলে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার কোন উপায় ছিল না। এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরী জানান, রোহিঙ্গাদের নিয়ে দিনের বেশির ভাগ সময় ব্যস্ত থাকতে হয়। যে কারণে বাজার মনিটরিং করা সম্ভব হয় না। তথাপিও মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমান অভিযান চালিয়ে দ্রব্যমূল্যের দাম স্থিতিশীল, মেয়াদোর্ত্তীণ মালামাল যেন বিক্রি না হয় সে ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

সর্বশেষ খবর