সোম. মার্চ ২৫, ২০১৯

উখিয়ায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গোস্ত বিক্রির অভিযোগ

শাকুর মাহমুদ চৌধুরী উখিয়া ♦ উখিয়া সদর সহ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ডাক্তারের পরীক্ষা-নীরিক্ষা ছাড়াই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পশু জবাই ও মাংস বিক্রি চলছে। ফলে বিভিন্ন রোগাক্রান্ত পশুর মাংস খেয়ে অসুস্থ্য হচ্ছেন স্থানীয়রা। মাংস বিক্রেতারা জানেনা পরীক্ষা নীরিক্ষার পর পশু জবাই করতে হয়।

এব্যাপারে এখানে কর্তৃপক্ষের তদারকি না থাকায় ছাগলের বদলে ভেড়া ও ষাঁড়ের বদলে গাভী এবং গরুর বদলে মহিষের মাংস ক্রয় করে প্রতারিত হচ্ছেন মাংস ক্রেতারা। জানা গেছে, উখিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের বটতলী এলাকায় একটি কসাইখানা আছে। সেখান থেকে দুর্গন্ধে স্কুল,কলেজ,মাদ্রাসা পড়ুয়া ছাত্র ছাত্রীসহ সাধারণ পথচারিদের নাকে রোমাল দিয়ে চলাচল করতে হয়। এছাড়া কোথাও কোনো কসাইখানা নেই। ফলে পুরো উপজেলা ব্যাপী রাস্তার পাশে কসাইরা যত্রতত্র পশু জবাই করে আসছে যুগ যুগ ধরে।

ভ্যাটেরিনারী সার্জন না থাকায় এবং স্যানিটারী ইন্সপেক্টরেরে খাম খেয়ালিপনায় খাবার অযোগ্য রোগাক্রান্ত পশু ডাক্তারি পরীক্ষা ও কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই নোংরা পরিবেশে জবাই করে মাংস বিক্রি করা হচ্ছে। উখিয়া সদরে দারোগা বাজার মাছ বাজারের পাশে রয়েছে মাংসের দোকান। একাধিক মাছ বিক্রেতারা জানিয়েছেন, মাছ বাজারের পাশে মাংস বিক্রি হয়। তাছাড়া কোটবাজার, মরিচ্যা সোনারপাড়া বাজার ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাশে কুতুপালং, বালুখালী এবং পালংখালী বাজারে নোংরা পরিবেশে মাংস বিক্রির ফলে মশা, মাছি, পোকা-মাকড় ও কুকুরের উপদ্রব বেড়েছে এখানে। মশা-মাছির মাধ্যমে মানুষের শরীরে ও ছড়াচ্ছে বিষাক্ত রোগ জীবাণু। ফলে হাঁপানি, জন্ডিস, যক্ষা, ডায়রিয়া, আমাশয়সহ নানা রোগে আক্রন্ত হচ্ছেন স্থানীয়রউখিয়ার বাজারগুলোতে পরীক্ষা-নীরিক্ষা না করেই পশু জবাই করে মাংস বিক্রি করা হচ্ছে।

মাংস বিক্রেতা নুরুল আলম জানান, মাংস বিক্রির ক্ষেত্রে গবাদি পশু পরীক্ষা-নীরিক্ষার ব্যাপারে তাদের কিছু জানা নেই। এদিকে বাচ্চা গরু, চাষাবাদ যোগ্য বলদও দুধের গাভী জবাই করা নিষিদ্ধ থাকলেও প্রায় ভোরে লোকচক্ষুর আড়ালে কসাইরা এসব পশু জবাই ও মাংস বিক্রি করছে। উখিয়া উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের হাটবাজারসহ রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অভ্যন্তরে প্রতিদিনই পশু জবাই করে একাধিক দোকানে মাংস বিক্রি হচ্ছে। গবাদি পশু জবাই ( বিধিনিষেধ ) ও মাংস নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ -১৯৫৭, এ পশু জবাইখানায় আধুনিক পরীক্ষাগার, জবাইয়ের পূর্বে পশুর ডাক্তারী পরীক্ষা ও জবাইয়ের পরে মাংস পরীক্ষা করে মাংসে সরকারি সীল মেরে বাজারে মাংস বিক্রির নিয়ম থাকলেও এখানে তা মানা হচ্ছে না। যারা মাংস বিক্রি করবে তাদেরকেও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে সংশ্লিষ্ট জেলার সিভিল সার্জন থেকে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সনদপত্র, গবাদি পশু জবাই সনদপত্র, মাংস কাটার যাবতীয় সরঞ্জাম ব্যবহারের আগে জীবানুমুক্ত করা, খোলা মাংস বিক্রি না করা এবং মাংসের দোকানে স্যানিটেশনের ব্যবস্থা রাখার নির্দেশনা থাকলেও উখিয়া উপজেলার হাটবাজারে কোনো মাংসের দোকানেই এসব মানা হচ্ছে না। পশু জবাইখানা ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১১ এর ২৪ (১) উপধারা মতে, যদি কোনো ব্যক্তি এই আইনে প্রণীত বিধির কোনো বিধান লঙ্ঘন করে বা তদনুযায়ী দায়িত্ব সম্পাদনে অথবা আদেশ অথবা নির্দেশ পালনে ব্যর্থ হয়, তা হলে তিনি অনুরুপ লঙ্ঘন বা ব্যর্থতার দায়ে অনুর্ধ্ব ১ (এক) বছর বিনাশ্রম কারাদন্ড অথবা অন্যুন ৫ (পাঁচ) হাজার এবং অনুর্ধ্ব ২৫ (পঁচিশ) হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড, অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন। দ্বিতীয়ত, একই ব্যক্তি যদি পূনরায় এ আইন বা বিধির কোনো বিধান লঙ্ঘন করেন বা তদনুযায়ী দায়িত্ব সম্পাদনে বা আদেশ বা নির্দেশ পালনে ব্যর্থ হন তিনি অনুরুপ লঙ্ঘন বা ব্যর্থতার দায়ে অনুর্ধ্ব ২ (দুই) বছর বিনাশ্রম কারাদন্ড বা অন্যুন ১০ (দশ) হাজার ও অনুর্ধ্ব ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড, অথবা উভয় দন্ডে দন্ডনীয় হবেন। কিন্তু এখানে এসব আইন মারাত্নকভাবে লঙ্ঘন করা হচ্ছে। স্থানীয়রা এসব আইনের প্রতি যথাযথ সম্মান রেখে সচেতনতা বৃদ্ধিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) এর সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.