“আমাদের সমাজ ও স্ত্রীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি”!!

SIMANTO SIMANTO

BANGLA

প্রকাশিত: আগস্ট ২৬, ২০২১

 

লেখক:
সাব্বির আহমেদ সাকিল

যেই সমাজে বিলং করি সেখানে স্বামীর আয় সবসময় স্ত্রীর উপরে থাকতে হবে । থাকতে হবে মানে থাকতেই হবে । শুধু আয় না‚ চাকরিতে পজিশনে উপর লেভেলে থাকবে হবে‚ যৌনমিলনে মিশনারী থাকতে হবে‚ কতৃত্বে থাকবে নো কম্প্রোমাইজ । স্বামীই সত্য‚ স্বামীই ঠিক‚ স্বামীই শুধু সম্ভাবনাময়; স্বামীই সেই রাজনৈতিক ‘সহমত ভাই’ আর স্ত্রী হইলো তাঁর শিষ্য[নো ইম্প্রোভাইজেশন প্লিজ‚ সিংহভাগ এইটাই সামাজিক চিত্র ।]

যেই সমাজ-সামাজিকতার বলয় আমাদের আঁকড়ে ধরে বাঁচি সেখানে না থাকে ওঁরা ভালো‚ না থাকি আমরা । যেখানে সমাজে বাস করি আর বলি আমরা সংঘবদ্ধ থাকবো‚ পরস্পর বিচ্ছিন্ন হবোনা‚ একে-অপরের সাহায্যে এগিয়ে আসবো । এই নীতিকথা শুধুমাত্র একাডেমিক বই ছাড়া আর কোথাও অস্তিত্ব নেই । যতটুকু পাওয়া যায় সেটুকু ব্যতিক্রম!

চারিদিকে শুধু ডিভাইডেশন আর ডিভাইডেশন । এই সমাজ প্রতিনিয়ত আমাদের শেখায় পরশ্রীকাতর হও‚ টাকার পাহাড় গড়ে তোলো‚ লাস্যময়ী এক সেক্সডলকে ঘরে আনো যে সজীব হওয়ার পরও থাকবে নির্জীব হয়ে ।

যেই সমাজে আমরা বিলং করি সেখানের আশেপাশের মানুষদের দিকে টিনের চশমা খুলে দেখেন এমন কোন পরিবার আছে যেখানে স্বামী কতৃক স্ত্রী মারধোরের স্বীকার হয়না? হয়তোবা রেয়ার দু-একটা পাবেন । কিন্তু সেটা কখনও একটি পুরো সমাজের উদাহরণ হতে পারেনা‚ কখনোই পারেনা ।

আপনার যদি মনে হয় সেই ব্যতিক্রমটাই উদাহরণ তবে আপনার কাছে সমকামিতাও সমাজের নরমাল সেক্সুয়ালির উদাহরণ । কারণ প্রত্যেক সমাজেই এরকম সমকামী ব্যক্তি থাকে-আছে ।

একটি সংসারে স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই সম্ভাবনাময় মানুষ । শুধু সন্তান ধারনে সম্ভাবনাময়ী স্ত্রী-ই নয়‚ সংসারে অর্থ আসায় সেও সম্ভবনার । একটি রাষ্ট্রে‚ একটি সমাজে কতজন মানুষ সরকারি চাকুরে হয়? কয়েক লক্ষ? কিন্তু কোটি কোটি জনতা সবাই তো সেই সুযোগ পায়না । আবার সেসব চাকুরীর বেশিরভাগই হয় নেপোটিজমভিত্তিক‚ রাজনৈতিক ক্ষমতায় আবার কিছু সৌভাগ্যবান । তাহলে বাকি মানুষগুলো বেঁচে থাকবে কি করবে? হয় ব্যবসা করতে হবে নয়তো কর্পোরেট কোম্পানিগুলোতে শ্রম দিয়ে উপার্জন করতে হবে ।

আমাদের ইসলাম ধর্মানুযায়ী একজন মানুষকে ছয়টি বিষয়ের উপর বিশ্বাস স্থাপন করতে হয় যায় । যাঁর ছয় নম্বরটি হলো ‘তাকদীরের প্রতি বিশ্বাস’। একজন ইসলাম মতাদর্শী মানুষকে এটির উপর বিশ্বাস রাখতেই হয় । অন্যান্য ধর্মগুলোতেও বিশ্বাস একটি মূখ্য জিনিস । যেটির উপর ভিত্তি করেই ধর্মগুলো‚ ধর্মীয় মতাদর্শ তৈরি হয় ।

সম্ভাবনাময় নারীগুলো[যেটির প্রথম হলো মা] আমার সবসময়ই ভালোবাসার‚ শ্রদ্ধার মানুষ । পরিবার পুরো হাল ধরার কথা বলছিনা‚ জাস্ট একটু সাপোর্ট । কর্মবিমুখীরা পুরুষ নয়‚ তাঁরা কাপুরষ । স্ত্রী’র ঘাড়ের উপর চেপে বসা পুরুষ আমার অপছন্দের এবং ঘৃণার । পুরুষের চেষ্টাতে ব্যর্থতা থাকতেই পারে‚ তবে পুরোটাসময় তাঁর উপর নির্ভরশীল বেঁচে থাকা যায়না ।

কিন্তু ‘এই সমাজ…এই সমাজ’ আপনার স্বাভাবিক‚ সাবলীল‚ সুন্দর দাম্পত্য জীবনে হানা দিবে । যেখানে আপনার দু’জনেই দু’জনের কাজকে শ্রদ্ধা করেন‚ সাপোর্ট দেন । আপনার স্ত্রী বসে থাকলেও আপনাকে কথা শোনাবে আবার সে কাজ করলেও আপনাকে কথা শোনাবে । সারা জীবনভর এই তিক্ত করা সমাজের বাংলা মাইকের হর্ণ বাজতেই থাকবে বাজতেই থাকবে । তারপর সম্ভাবনাময়ী মেয়েটির সাথে আপনার কলহ বাঁধবে‚ অভিমান বাড়বে‚ ঈর্ষা বাড়বে; অতঃপর হয়তো সম্পর্কের বিচ্ছেদ কিংবা সারাজীবন দু’জন দু’জনকে আরচোখে দেখেই কাটিয়ে দিবেন ।

আপনার ভাবাবেগ‚ শেয়ারিং-কেয়ারিং‚ দাম্পত্য‚ যৌনতা‚ সন্তানসন্তদি সবকিছুতেই সংশয় বাঁধবে; বিভেদ বাড়বে; একসময় জোয়ার ভাটা পড়বে । যেটা একটা দীর্ঘস্থায়ী জোয়ার ভাটা ।

এ সমাজের যান্ত্রিকতা‚ লোভ‚ ঈর্ষা‚ পরশ্রীকাতরতায় আমরা প্রতিনিয়ত মরে যাচ্ছি । মনের প্রশান্তি‚ স্বাধীনতা‚ আত্না বলে যে কিছু আছে তা হারাতে বসি । আমাদের কিচ্ছুটি বাকি নেই‚ সব পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থার হাতে । আমাদের স্বপ্ন‚ ভালোবাসা‚ ইচ্ছা‚ কামনা‚ যৌনতা সবকিছুই ওঁদের হাতে নিয়মতান্ত্রিক শৃঙ্খলে বন্দী…একেবারে বন্দী…

সীমান্তবাংলা / ২৬ আগষ্ট ২০২১